অপরাধ
মাদকাসক্ত ছেলের হাতে ভ্যান চালক বাবা খুন
নাগরপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে ভ্যান চালক বাবা আব্দুর রহিম ভূইয়া(৫৫) খুন হয়েছেন। ছেলেকে টাকা দিতে দেরি হওয়ায় শীলপাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ওই উপজেলার বেকড়া আটগ্রাম ইউনিয়নের কোনাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, রোববার সকালে ভ্যানচালক আব্দুর রহিম ভূইয়া নিজের ঘরে ভাত খেতে বসেন। এসময় মাদকাসক্ত ছেলে মোস্তফা ভূইয়া(২০) বাবার কাছে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং এক পর্যায়ে ঘরে থাকা শীলপাথর দিয়ে বাবার মাথায় জোরে আঘাত করেন। এতে বাবা আব্দুর রহিম মাটিতে লুটিয়ে পরেন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত মোস্তফা একজন মাদকাসক্ত। তিনি কিছুদিন আগে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে অমানষিক নির্যাতন করছিলেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেছেন।নিহতের স্ত্রী শিরিন বেগম ও বড় মেয়ে সালমা জানান, মোস্তফা একজন মানষিক ভারসম্যহীন। মাঝেমধ্যেই বাড়িতে পাগলামী করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কদ্দুস জানান, অভিযুক্ত মোস্তফা একজন মাদকাসক্ত। টাকা-পয়সা নিয়ে বাবার সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে।নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহুরুল ইসলাম জানান, হত্যার পর ছেলে মোস্তফা ভূইয়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে ভাইকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
৩০ আগস্ট ২০২৬
শান্তিতে ঘুমানোর দাবিতে দেউপাড়ায় মানববন্ধন ও গণবিক্ষোভ
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল-ধলাপাড়া সড়কের ঘাটাইল উপজেলার দেউপাড়া ইউনিয়নের কেরানীবাড়ী চৌরাস্তায় গণবিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে মাদকের বিস্তার ও চুরি রোধ এবং রাতে শান্তিতে ঘুমানোর দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়।গণবিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন, ঘাটাইল উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও দেউপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মো. জুয়েল রানা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুল্লাহ আলামিন, দেউপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা, স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য হযরত আলী, ওয়ার্ড যুব দলের সাধারণ সম্পাদক খোকন সিকদার, বিএনপি কর্মী মিয়া চান, আক্তার হোসেন, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেউপাড়া ইউনিয়নে বিশেষ করে কালিকাপুর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের দৌড়াত্মে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা করছে। স্থানীয় যুবক-কিশোররা ওই মাদক সেবন করে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকের অবাধ বিস্তারের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রায়ই চুরি হওয়ার কারণে এলাকার মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছেনা- এলাকাবাসী শান্তিতে ঘুমাতে চায়।বক্তারা আরো বলেন, মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষে হাছান মিয়া ঘাটাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী দুই চোরকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক ব্যবসায়ী ও চোর সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের নাম প্রকাশ করে দিয়েছে। তার পরও মাদক প্রতিরোধে পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বক্তারা অনতিবিলম্বে মাদক ও চুরি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।গণবিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্থানীয় চার শতাধিক নারী-পুরুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা অংশ নেয়। পরে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি সম্বলিত ‘গণস্বাক্ষর’ আবেদনপত্রে এলাকাবাসীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
২৯ আগস্ট ২০২৬
চাঁদাবাজদের আতঙ্কে জুট মিল ম্যানেজারের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়!
বুলবুল মল্লিক:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে চাঁদা না পেয়ে পাটকলের ম্যানেজারকে হুমকি দেওয়ার পর আতঙ্কে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভূঞাপুর থানাধীন সারপলশিয়া মৌজায় অবস্থিত ‘ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ কোম্পানিতে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিলের সুপারভাইজার মো. আক্তার হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করলেও পুলিশ কেবল চাঁদাবাজির ধারায় তা রেকর্ড করেছে। আসামিদের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে ম্যানেজারের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা তো নেওয়া হয়ইনি, উল্টো ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করতে দিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।সরেজমিনে মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূঞাপুরের সারপলশিয়া এলাকায় ২০১৮ সালে উৎপাদনে আসা ‘ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ নামক জুট মিলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. সাজিদুর রহমান ওরফে শাহজাহান(৫৫)। তিনি ওই উপজেলার ভারই গ্রামের সাবেক পোষ্টমাষ্টার মৃত হাসান আলীর ছেলে। বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় পাথাইলকান্দি গ্রামের আসলামের ছেলে ওয়ারেস(২৫), সারপলসিয়া গ্রামের বাছেদের ছেলে মো. শামীম (৩০) এবং পাথাইলকান্দি গ্রামের মৃত আ. হাই তালুকদারের ছেলে মো. লিখন(৩০) মিলের ম্যানেজারের নিকট বিভিন্ন সময়ে সরাসরি এবং মোবাইল ফোনে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হুমকি দিয়ে আসছিল।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ আগস্ট (শনিবার) সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা তাদের দলবল নিয়ে মিলে ঢুকে ম্যানেজারের সাথে চরম অসদাচরণ করে এবং ২৪ আগস্টের মধ্যে চাঁদা না দিলে ম্যানেজারকে হত্যা করে লাশ গুম করার আল্টিমেটাম দেয়। সে সময় মিলের সুপারভাইজার আক্তার হোসেন, প্রোডাকশন ম্যানেজার মো. রমজান আলী, হিসাব রক্ষক মো. ইয়াসিন আরাফাতসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা তাদের চলে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তারা চলে যায়নি। ফলে চাঁদাবাজদের অব্যাহত হুমকিতে ম্যানেজার সাজিদুর রহমান চরম ভীতসন্তপ্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে গত ২৪ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে অভিযুক্ত চাঁদাবাজরা মোটরসাইকেল যোগে পুনরায় মিলে ঢুকে ম্যানেজারকে খুঁজতে থাকে। এই খবর পেয়ে পূর্বের হুমকিতে আতঙ্কিত থাকা ম্যানেজার সাজিদুর রহমান ওরফে শাহজাহান তীব্র মানসিক আঘাতে মিলের ভেতরেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ম্যানেজারের এই রহস্যজনক ও আকস্মিক মৃত্যুর পর পুলিশ কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করার অনুমতি দেয়।স্থানীয় কয়েকব্যক্তি জানায়, এলাকার বালু ব্যবসায়ীরা জায়গা ভাড়া নিয়ে ট্রাক যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করেছে। জুট মিলের ট্রাক ওই রাস্তা বিনাভাড়ায় ব্যবহার করে থাকে- সেই বিষয়েই ওয়ারেস, শামীম, লিখন সহ কয়েকজন মিলে গিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছেন।মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের বেশিরভাগ মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, ময়নাতদন্ত না করিয়ে পুলিশ প্রকারান্তরে চাঁদাবাজদের আড়াল করার এবং মৃত্যুর ঘটনার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।মিলের সহকারী প্রোডাকশন ইনচার্জ ফরিদুল ইসলাম ও ফেরদৌস ওয়াহিদ সহ সাধারণ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ওয়ারেস, শামীম, লিখনদের সরাসরি হুমকির কারণেই ম্যানেজার স্ট্রোক করে মারা গেছেন। অথচ পুলিশ মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল ও গুরুতর বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়ে কেবল চাঁদাবাজির সাধারণ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে।মামলার বাদী ও মিলের সুপারভাইজার আক্তার হোসেন জানান, ২০১৮ সালের আগে স্থাপিত জুট মিলটিতে প্রায় ৫০০ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করছে। এ পর্যন্ত কোনোপ্রকার কথা হয়নি। হঠাৎ করেই ওয়ারেস, শামীম, লিখন সহ ৫-৬ ব্যক্তি চাঁদা আদায়ে উঠেপড়ে লাগে। ম্যানেজার চাঁদাবাজদের চাপ সহ্য করতে না পেরে আতঙ্কিত হয়ে মিলেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মামলার এজাহারে সে কথা উল্লেখ থাকার পরও পুলিশ সাধারণ চাঁদাবাজির ধারায় মামলা(নং-২০, তাং-২৬/৮/২৬ইং, ধারা-১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৮৫/৫০৬ পেনাল কোড) রেকর্ড করা করেছে। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত হওয়া একজন মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও পুলিশ তা না করে মরদেহ দাফন করার অনুমতি দিয়ে অন্যায় করেছে।নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল জানান, জুট মিলের ম্যানেজার অসুস্থ ছিলেন এবং তিনি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। ওখানে পাওনা টাকা নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়েছে- চাঁদাবাজির কোনো বিষয় আছে বলে তিনি জানেন না।ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, জুট মিলের ঘটনায় চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্ট্রোক করে ম্যানেজারের মৃত্যু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চাঁদাদাবিকারীদের সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি জানান, যেহেতু স্ট্রোক করে ম্যানেজারের মৃত্যু হয়েছে, তাই পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত করতে দেয়নি। মরদেহ পারিবারিকভাবে ধর্মীয় রীতিতে দাফন করা হয়েছে।
২৯ আগস্ট ২০২৬
পিকআপভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনায় ফেলার সময় চালক আটক
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পিকআপভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় কোটি টাকার সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলতে গিয়ে চালক আজমতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। বুধবার (২৬ আগস্ট) মধ্যরাতে উপজেলার গোবিন্দাসী টি রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দিনগত মধ্যরাতে একটি মালবোঝাই পিকআপ গোবিন্দাসীর টি রোডের কালা সড়ক ধরে যুমনা নদীর দিকে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছিল। ওষুধগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার প্রস্তুতিকালে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। এসময় চালক আজমত আটক হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক পিকআপ ও চালককে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।আটক পিকআপ চলক ও মালিক আজমতের দাবি, পিকআপ ভর্তি ওষুধগুলো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা সরকারি হাসপাতালের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলে দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এরআগেও ঘাটাইলের বনাঞ্চলের গভীরে নিয়ে হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো ফেলে দিয়েছিলেন। এবারও একইভাবে ওষুধগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল ওষুধগুলো তাদের হাসপাতালের বলে স্বীকার করেছেন এবং এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, জনগণ ওষুধ ও পিকআপ আটক করেছে। পরে পুলিশে সোপর্দ করলে থানায় নিয়ে আসা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৭ আগস্ট ২০২৬
নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটি চাপা
নাগরপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মুক্তিপন না পেয়ে শামিম (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘাতকের বাড়ির পাশে মাটি চাপা দেওয়া মরদেহ পুলিশ মঙ্গলবার(২৫ আগস্ট) সকালে উদ্বার করেছে। নিহত নাগরপুর উপজেলার শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের (সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) শেষ বর্ষের ছাত্র। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে অনিককে(২৮) গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছ থেকে হত্যাকান্ডের শিকার কলেজ ছাত্র শামিমের সেলফোন উদ্বার ও তার তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্বার করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ আগস্ট(শুক্রবার) বিকালে শামিম নিখোঁজ হন। নিখোঁজের ২ দিন পর ২৩ আগস্ট নিহতের বাবা বিল্লাল মল্লিক নাগরপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ২১ আগস্ট বিকালে ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে অনিক মোবাইল ফোনে শামিমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামিম নিখোঁজ হয়। অবশেষে শামিমের বাবা নাগরপুর থানায় সাধারণ ডাইরী করেন। শামিমের কল লিষ্টের সূত্র ধরে সোমবার (২৪ আগষ্ট) রাতে অনিককে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার বাড়ির পাশে মাটি চাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করে। পুলিশ তার (অনিকের) বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে তার দেওয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে শামিমের বস্তাবন্দি অর্র্ধগলিত মরদেহটি উদ্বার করে।এ প্রসঙ্গে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্বার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনিক নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনিক একজন মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারী। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
২৫ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলে নিখোঁজের একদিন পর শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে নিখোঁজের একদিন পর জিহাদ হোসেন আসিফ (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার টাঙ্গাইল-কালামপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের গাড়াইল আন্ডারপাস এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আসিফ টাঙ্গাইল সদরের চর পাতুলীস্থ কচুয়াডাঙ্গা এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি হাজী আবুল হোসেন ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের (হ্যাবিট) ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আঞ্চলিক মহাসড়কের গাড়াইল আন্ডারপাস এলাকার একটি ডোবার পানিতে অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার(১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মুরগি বিক্রির জন্য আসিফ পুটিয়াজানি হাটে যান। সেখানে চাচাতো ভাই তামিমকে কাজের কথা বলে চলে আসে আসিফ। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে রাত ৮টা পর্যন্ত তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা থানায় যোগাযোগ করেন।টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ রাহাদুজ্জামান আকন্দ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আসিফ শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১৫ আগস্ট ২০২৬
মির্জাপুরে শিশুকন্যাকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা!
মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে চার বছরের শিশুকন্যাকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুবুরিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছেন- ওই গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী কনিকা আক্তার (২২) ও তাদের চার বছরের মেয়ে রাজিয়া। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে।জানা যায়- প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কনিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার(১৩ আগস্ট) রাতে স্বামী রাজীব সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কনিকা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি যেতে চাইলে শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে বাধা দিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। ক্ষোভে কনিকা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কণিকা আক্তার তার শিশুকন্যা রাজিয়াকে গলা টিপে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করে। স্থানীয়রা দরজা ভেঙে কনিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং শিশুকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মির্জাপুর থানা পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক ধারণায় এটিকে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যা বলে মনে করছে পুলিশ।মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬
‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায়, বাকিডি যায় না’ বলা সেই পুলিশ চাকরি থেকে বরখাস্ত
দৃষ্টি নিউজ:‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এই বক্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার ইকবাল হোসাইনকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে এ শাস্তি দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে।খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ইকবাল হোসাইন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।গণমাধ্যমের হাতে আসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও ইকবাল হোসাইন কোনো জবাব দেননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে অভিযোগ তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। পরে তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশন ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়। এরপর বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে ইকবাল হোসাইনসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড অনুমোদনের প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
১২ আগস্ট ২০২৬
স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও দেনমোহর জালিয়াতির অভিযোগ
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে যৌতুক, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং কাবিননামায় দেনমোহর জালিয়াতির অভিযোগ এনে স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সোনিয়া আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী নারী। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের বটতলায় প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পশ্চিমপাড়া এলাকার নজরুল মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী শাহিন মিয়া দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের চণ্ডী এলাকার ছানোয়ার হোসেনের ছেলে।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোনিয়া আক্তার অভিযোগ করেন- বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং ননদসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকার আসবাবপত্র, ১ লাখ টাকা মূল্যের ল্যাপটপ ও মোবাইলসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল ও অর্থ আটকে রাখা হয়েছে।দেনমোহর নিয়ে বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ তুলে সোনিয়া বলেন, ‘বিয়ের সময় আমাদের দেনমোহর ৩ লাখ টাকা নির্ধারণের কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কাবিননামা হাতে পেয়ে দেখি সেখানে মাত্র ৩০ হাজার টাকা লেখা হয়েছে। স্থানীয় কাজি এবং স্বামীর পরিবারের লোকজন যোগসাজশ করে দেনমোহরের পরিমাণ কম দেখিয়ে আমার সাথে এই প্রতারণা করেছে।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত। এই অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় তাকে নিয়মিত গালিগালাজ ও মারধর করা হতো। পরবর্তীতে স্বামীর পরিবারের অন্য সদস্যরাও তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।সোনিয়া আক্তার জানান, এই নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় তিনি দেলদুয়ার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার বেশ কিছু দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। আইনি প্রতিকার পেতে তিনি এখন আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সোনিয়া বলেন, ‘আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার ওপর হওয়া এই অন্যায়ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আমি আপনাদের (সাংবাদিকদের) সহযোগিতা কামনা করছি।’এদিকে সোনিয়া আক্তারের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার স্বামী শাহিন মিয়া। তিনি দাবি করেন, মুঠোফোনে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি সোনিয়াকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য হন। পরে তিনি জানতে পারেন, সোনিয়ার এর আগে আরও তিনটি বিয়ে হয়েছিল।শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমরা তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করিনি। সে আমাকে না জানিয়েই নিজে বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে আমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছি।’
০৮ আগস্ট ২০২৬
মধুপুরে বিএনপি নেতার মাকে কুপিয়ে খুন
মধুপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের মা জলেমন বেওয়াকে কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার(৩১ জুলাই) রাতে উপজেলার শোলাকুড়ি দিঘির পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার মৃত আয়েজ উদ্দিনের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানায়, জালেমন বেওয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। শুক্রবার রাতে প্রতিবেশি রেজাউল করিমের স্ত্রী পান খাওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে জালেমনকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে এলাকাবাসী মধুপুর থানায় খবর দেয়। এ বিষয়ে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কি কারণে হত্যা করা হয়েছে তা জানা যায়নি। শনিবার(১ আগস্ট) সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
০১ আগস্ট ২০২৬
কালিহাতীর শীর্ষ সন্ত্রাসী শান্ত র্যাবের হাতে কট
কালিহাতী প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে হত্যা, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী আরিফুর রহমান শান্তকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র্যাব-১৪, সিপিসি-৩) । র্যাবের দাবি, তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পরে তাকে কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হলে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর প্রায় ২টা ৪০ মিনিটে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বটতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আরিফুর রহমান শান্তকে আটক করা হয়। র্যাব জানায়, বিগত ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গা পৌরসভা এলাকায় সংঘটিত নাশকতার ঘটনায় শান্তর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, তার নির্দেশনা ও সহযোগিতায় তার অনুসারীরা মহাসড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ও লাকড়ি ফেলে এবং যানবাহনের টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই আরিফুর রহমান শান্ত আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব। এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, র্যাবের মাধ্যমে আটক আরিফুর রহমান শান্তকে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৩০ জুলাই ২০২৬
আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার
দৃষ্টি নিউজ: চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ধুমধুমপুর এলাকা থেকে পাঁচ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাই শুটার। বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে দুই বছর ধরে বেশি কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে। এর আগে গত রোববার(২৬ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। তাদের মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।
২৯ জুলাই ২০২৬
পাসপোর্ট অফিসে দালালের রাজত্ব
মাসুদ রানা, অতিথি লেখক: রাজধানীর পাসপোর্ট অফিসগুলোতে সরকারি সেবা যেন এখন অনেকটাই দালালনির্ভর হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ নিয়ম মেনে আবেদন করতে গিয়ে পড়ছেন দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি, হয়রানি ও নানা অজুহাতে আবেদন ফেরত যাওয়ার বিড়ম্বনায়। অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে দালালের শরণাপন্ন হলেই মিলছে দ্রুত সেবা, নেই দীর্ঘ অপেক্ষা কিংবা জটিলতার ভয়। এমন বাস্তবতায় সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট, যাদের সঙ্গে অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। সরেজমিনে রাজধানীর আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের মূল ফটক থেকে শুরু করে আশপাশের কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে দালালদের নেটওয়ার্ক। সেবাপ্রত্যাশীরা অফিসে প্রবেশের আগেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ছেন। কেউ পাসপোর্ট করতে এসেছেন শুনলেই শুরু হচ্ছে দরকষাকষি। কোন ক্যাটাগরির পাসপোর্ট, কত দিনের মধ্যে প্রয়োজন এবং কত টাকা খরচ করতে রাজি, এসব তথ্য নিয়েই শুরু হয় সেবার প্যাকেজ অফার। গত ২১ জুলাই সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের মূল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা চার থেকে পাঁচজন যুবককে দেখা যায়, যারা অফিসে প্রবেশ করা প্রায় প্রতিটি ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে ভেতরে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা দাবি করেন, তারা দালাল নন; আশপাশের কম্পিউটার দোকানে কাজ করেন এবং ফরম পূরণসহ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করেন। তবে পরিচয় গোপন রেখে একজন সেবাপ্রত্যাশী হিসেবে কথা বললে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে রাজু নামে এক ব্যক্তি সাধারণ পাসপোর্ট করার জন্য আট থেকে নয় হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত এই অর্থ পরিশোধ করলে কোনো ধরনের সিরিয়ালে দাঁড়াতে হবে না। আবেদন জমা দেওয়ার পরপরই ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া যাবে এবং আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এমনকি নির্ধারিত সময়ের আগেই পাসপোর্ট হাতে পেতে চাইলে আরও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সেটির ব্যবস্থাও করে দেওয়া সম্ভব। একইভাবে জীবন নামে আরেক ব্যক্তি জানান, তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে পাসপোর্ট অফিসের সামনে কাজ করছেন। সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা দিলেই দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। কেন অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই টাকা তাকে একা রাখতে হয় না। আনসার সদস্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অর্থ দিতে হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমি এ অফিসের সামনে ১২ বছর ধরে কাজ করছি। আমার কাজ খুব দ্রুত হয়। যে টাকা নিই তার বড় অংশ অফিসের বিভিন্ন স্যারদের দিতে হয়। আমাকে একবার কাজ দিয়ে দেখেন।’ সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে গেলে যে কাজ আধা ঘণ্টায় সম্পন্ন হয়, সেই একই কাজ নিয়ম মেনে করতে গেলে কখনো কখনো পুরো দিন পার হয়ে যায়। আবেদন জমা দেওয়া, ছবি তোলা, বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান এবং পাসপোর্ট সংগ্রহ, প্রতিটি ধাপেই রয়েছে দীর্ঘ লাইন ও হয়রানির অভিযোগ। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন। পাসপোর্ট অফিসের আশপাশের কম্পিউটার দোকানগুলো কার্যত এখন একেকটি অনানুষ্ঠানিক পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। পাসপোর্টে নামের বানান ভুল, জন্মতারিখ সংশোধন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যগত অসঙ্গতি কিংবা পুলিশ ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত নানা জটিলতার সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন এসব দালাল। তাদের দাবি, পাসপোর্টের কোনো সমস্যাই তাদের কাছে সমস্যা নয়। সেবাপ্রত্যাশী কামরুজ্জামান জানান, তার মামাতো ভাইয়ের পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা এক দালালের কাছে জমা দিয়েছিলেন। দালাল সাত দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৫ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখন পর্যন্ত পাসপোর্ট পাননি। এমনকি দালালের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় নতুন এসেছিলাম। অফিসের লম্বা লাইন দেখে দালালের মাধ্যমে আবেদন করি। এখন না পাচ্ছি দালালকে, না পাচ্ছি পাসপোর্ট।’ অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসকে কেন্দ্র করে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে অন্তত ২৩ সদস্যের একটি দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জীবন সিকদার নামের একজনকে কেন্দ্র করেই এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়। তার সঙ্গে আরও অন্তত ২২ জন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে দালালির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও কয়েক ঘণ্টা পরই আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে দালালচক্র। বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া দালালদের ছবি অফিসের সামনে টানিয়ে রাখা হলেও বাস্তবে তাতে কোনো কার্যকর পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দালাল চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। দালালদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তারা আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। খুব শিগগিরই আরও একটি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি জানান। তিনি সাধারণ মানুষকে দালালের মাধ্যমে আবেদন না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সেবাগ্রহীতারা সচেতন হলে এই দালাল চক্রকে নির্মূল করা অনেক সহজ হবে। ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, দালালদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি চিহ্নিত কয়েকজন দালালের ছবি টানিয়ে তাদের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার বলেন, প্রতিনিয়ত দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরপরও তাদের উৎপাত পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা ছাড়া কোনোভাবেই দালালদের পক্ষে এমন শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি নতুন কোনো ঘটনা নয়। শুধু ঢাকাই নয়, দেশের বিভিন্ন পাসপোর্ট অফিসে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিদ্যমান পদ্ধতির কিছু দুর্বলতা ইচ্ছাকৃতভাবে রেখে দেওয়ায় দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে পাসপোর্ট অফিসে সেই সেবা পেতে অনেককেই এখন দালালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পাসপোর্ট সেবা কি সত্যিই দালালমুক্ত হয়েছে, নাকি সরকারি সেবার আড়ালে এখনো বহাল তবিয়তেই চলছে দালালতন্ত্র? রাজধানীর পাসপোর্ট অফিসগুলোতে প্রতিদিনের চিত্র বলছে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখনও অনেক পথ বাকি।
২৬ জুলাই ২০২৬
বাসাইলে সালিশ শেষে অন্তঃসত্ত্বাসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম
বাসাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সালিশি বৈঠক শেষে দুই নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোড়-হাকিমপুর মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের বড় ভাই সুরুজ্জামান বাদী হয়ে বাসাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন- বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোড়-হাকিমপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস ছবুর মিয়ার মেয়ে পারভিন বেগম (৪৫), তার ছেলে নূরুল আমিন (৩৮) ও নূরুল আমিনের স্ত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা উর্মি আক্তার (২৮)। অভিযুক্তরা হচ্ছেন- একই এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁন (৪৫), আব্দুল লতিফ (৪০), তার মেয়ে ফাতেমা বেগম (৩৫) ও রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁনের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাপনাজোড়-হাকিমপুর মধ্যপাড়া এলাকার সুরুজ্জামান ও পাশের বাড়ির রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁনের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ইতোপূর্বে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশি বৈঠক হলেও মীমাংসা হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান মিয়াসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আবারও একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই পক্ষই প্রথমে রায় মেনে নেয়। তবে সালিশ শেষে মাতব্বররা চলে যাওয়ার পরপরই রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁন ও তার ছোট ভাই আব্দুল লতিফসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সুরুজ্জামানের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সুরুজ্জামানের ছোট বোন পারভিন আক্তারের মাথায় দা দিয়ে কোপায় এবং হাতে লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে নূরুল আমিন ও তার গর্ভবতী স্ত্রী উর্মি আক্তারকেও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত চলে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পারভিন আক্তার, নূরুল আমিন ও তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী উর্মি আক্তারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে নেওয়া হয়। পারভিন আক্তারের মাথায় ১২টি ও হাতে ৩টি সেলাই করা হয়েছে। তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে পারভিন আক্তারের অবস্থা গুরুতর। আহত পারভিন আক্তারের বড় ভাই সুরুজ্জামান বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে বসা হয়। সালিশে বিষয়টি সমাধান হয়। কিন্তু মাতব্বররা চলে যাওয়ার পর রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁন ও তার ছোট ভাই আব্দুল লতিফসহ কয়েকজনে মিলে দা ও লাঠি নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। কাশিল ইউপি চেয়ারম্যান রমজান মিয়া বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয় নিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশে বসা হয়েছিল। ওইদিন বৃষ্টি থাকায় জমির পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। আমরা সেখান থেকে চলে আসার পর প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে পারভিন নামে এক নারীকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার শাবল দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। বিষয়টি সমাধান হওয়া জরুরি।’ বাসাইল থানার এসআই ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পরে আহতদের হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’
১২ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলে অপরাধের ভয়াবহতা বেড়েছে
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। গত সাত দিনে জেলার তিনটি উপজেলায় পৃথক ঘটনায় পাঁচটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সর্বশেষ শনিবার(৪ জুলাই) রাতে সদর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ি বাজারে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৫ জুলাই) সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাসুদ মিয়া (৪৫) নামে ওই মুদি দোকানির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মাসুদ মিয়া কুইজবাড়ি গ্রামের লাল মাহমুদের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে বিষয়টি ইউপি সদস্য ফরহাদ আলীকে জানানো হলে তিনি জাতীয় জরুরি পরিষেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহত ব্যবসায়ীর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত ১ জুলাই (বুধবার) নিখোঁজের একদিন পর সখীপুর উপজেলা হাসপাতাল গেটের দক্ষিণে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে পারভীন আক্তার নামে এক বিধবা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামের মৃত হুমায়ুন খানের স্ত্রী। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতের ছেলে ফাহাদ ঢাকায় চাকরি করার কারণে পারভীন আক্তার সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসায় একা বসবাস করতেন। এর আগে গত ২৯ জুন (সোমবার) সকালে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাজমা আলম নাজু নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন ঋণের চাপে পড়ে সোনা লুট করার উদ্দেশ্যে ওই গৃহবধূকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মোশারফ হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এদিকে, নাগরপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। গত ১ জুলাই (বুধবার) দুপুরে সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটখেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শওকত সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মধ্যপাড়ায় গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের সংঘর্ষে ছানোয়ার মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের আবু হানিফের ছেলে। গত ২৮ জুন (রোববার) নিজের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়ার সময় চাচাতো ভাইদের সাথে তার সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত ছানোয়ারকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। পরদিন ২৯ জুন(সোমবার) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাত দিনের ব্যবধানে জেলায় পরপর পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক জানান, বর্তমান সমাজে সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে। এ অবক্ষয় রোধে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সচেতনতা প্রয়োজন। পরিবার তথা সমাজের তৃণমূল থেকে এসব শিক্ষাগ্রহণ করতে হয়। বর্তমান প্রজন্ম বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইসে আসক্ত হওয়ায় সামাজিক মূল্যবোধের এ বিপর্যয় ঘটেছে। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আদিবুল ইসলাম জানান, বর্তমান সমাজে পারিবারিক শিক্ষার অভাবে সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। আগে সন্ধা হলেই প্রতিটি অভিভাবক তাদের সন্তানদের খোঁজ নিতেন। কিন্তু এ প্রজন্মের সন্তানরা মোবাইলের বিভিন্ন ডিভাইসে আসক্ত হওয়ায় তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়াচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রত্যেক অভিভাবককে সচেতনভাবে পারিবারিক শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপও নিতে হবে।
০৫ জুলাই ২০২৬
গাঁজা চাষীর স্বপ্নভঙ্গ করল প্রশাসন
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাট ক্ষেতের আড়ালে গাঁজা চাষ করে বেশি লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন আল আমিন(৩৮)। কিন্তু জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ১১টি বড় সাইজের গাঁজা গাছ সহ তাকে গ্রেপ্তার করে লালিত স্বপ্নভঙ্গ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বলরামপুর পশ্চিম পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আল আমিন ওই গ্রামের মৃত বাদশাহ মিয়ার ছেলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় পাটক্ষেতের মাঝখানে গাঁজা চাষ করছে আল আমিন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভূঞাপুর উপজেলার বলরামপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১১টি বড় সাইজের গাঁজা গাছ উদ্ধার এবং আল আমিনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
০২ জুলাই ২০২৬
নাগরপুরে পাটক্ষেত থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
নাগরপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, নিহত শওকত উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে। বুধবার(১ জুলাই) দুপুরে ওই ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটক্ষেত থেকে শওকতের অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের চাচাত ভাই মো. আয়নাল মোল্লা জানান, গত তিন দিন ধরে তার ভাই শওকত মোল্লা নিখোঁজ ছিল। বুধবার দুপুর ১ টার দিকে বিন্নাওঝা গ্রামে একটি মরদেহ পাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখতে পান তার ভাইয়ের মরদেহ পরে রয়েছে। নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম স্থানীয়দের বরাতে জানান, উপজেলার নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে শওকত মোল্লার অর্ধগলিত মরদেহ পাশ্ববর্তী বিন্নাওঝা গ্রামের জনৈক গাজী কবিরের পাটক্ষেতে স্থানীয়রা পরে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত ব্যক্তির মরদেহ সনাক্ত করে। পরে সংবাদ পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তিনি জানান, এ ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে এখনও কোনো কিছু জানা যায়নি। তবে তদন্তের পর মোটিভ সম্পর্কে জানা যাবে।
০১ জুলাই ২০২৬
সখীপুরে দুই দিন পর নিখোঁজ বিধবার মরদেহ উদ্ধার :: পরিবারের দাবি খুন
সখীপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পারভীন আক্তার (৪৬) নামে এক বিধবা নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) সকালে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেট এলাকার দক্ষিণ পাশে বাসার নিকটবর্তী একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত পারভীন আক্তার মৃত হুমায়ন খানের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, পারভীন আক্তার এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। ছেলে সোহেল রানা ফাহাদ ঢাকার সাভারে চাকরির কারণে সেখানে বসবাস করেন এবং মেয়ের বিয়ে হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে। এরপর থেকে পারভীন বাড়িতে একাই থাকতেন। স্বজনরা জানায়, গত ২৯ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছেলের সঙ্গে মোবাইলে তার সর্বশেষ কথা হয়। পরদিন সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করলেও মোবাইল ফোন সচল থাকলেও তিনি আর কোনো কল রিসিভ করেননি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে ছেলে ফাহাদ ঢাকা থেকে সখীপুরে ফিরে এসে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালানোর পর বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ছেলে সোহেল রানা ফাহাদ দাবি করেন, তার মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এ বিষয়ে বাসাইল-সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) একেএম মামুনুর রশিদ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
০১ জুলাই ২০২৬
সোনা লুটের উদ্দেশ্যে হাতুড়ির আঘাতে গৃহবধূকে খুনের পর সিসি ক্যামেরা ভাঙা হয়
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় ঋণের চাপে স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে গৃহবধূ নাজমা আলম নাজুকে খুন এবং মৃত্যু নিশ্চিত করার পর সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয় বলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চৌরাস্তা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন। মঙ্গলবার(৩০ জুন) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান মোশারফ হোসেনের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন। আদালতের পরিদর্শক মো. মুরাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, টাঙ্গাইলের চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ নাজমা আলম নাজু খুনের ঘটনায় সদর থানা পুলিশ মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেনকে(৪২) দন্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার বিকালে আদালতে হাজির করে। পরে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খানের কাছে মোশারফ হোসেন জবানবন্দি দেন। আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানাগেছে, জবানবন্দিতে মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন- মোশারফের সঙ্গে নাজমা আলম নাজুর পরিবারের দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে যোগাযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোশারফ হোসেন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময়ে নাজমা আলমের কাছ থেকে তিনি ঋণ নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ করেন এবং এনজিও থেকেও ঋণ নিয়ে লোকজনের কাছ থেকে নেওয়া কিছু টাকা পরিশোধ করেন। ঋণের আরও টাকা পরিশোধের জন্য রোববার(২৮ জুন) তিনি আবার নাজমা আলম নাজুর কাছে টাকা চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে মোশারফ হোসেন পাশের ঘর থেকে হাতুড়ি এনে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। পরে নাজমার হাতে ও গলায় থাকা স্বর্ণালংকার নেওয়ার চেষ্টা করলে নাজমা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মোশারফ নাজমাকে আবার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে মোশারফ স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান। এরআগে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ নাজমা আলম নাজু(৫১) হত্যার ঘটনায় গোপনে খবর পেয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে(৪৫) আটক করা হয়। তার কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত উদ্ধার করা হয়। স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস বেতকা চৌরাস্তা মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মোশারফ হোসেন দেলদুয়ার উপজেলার মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ হোসেন গৃহবধূকে খুনের কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় তাকে আদালতে নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত রোববার টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাজমা আলম নাজুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় মৃতের গলার স্বর্ণের চেইন ও হাতের বালা নিয়ে যাওয়া হয়। এরসূত্র ধরে প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় হত্যাকারী মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৩০ জুন ২০২৬