জাতীয়
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নের দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
দৃষ্টি নিউজ:দেশের আইনশৃঙ্খলা, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এরমধ্যে রাজধানী ঢাকার দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের।প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক জরুরি কর্মসূচি হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূল নিশ্চিত করা। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে আরও কার্যকর তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।রাজধানী ঢাকার মতো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপিকে দেওয়াকে তাঁর প্রতি সরকারের আস্থা ও প্রত্যাশার গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন দায়িত্বে তিনি ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের তদারকিতে ভূমিকা রাখবেন।এদিকে, টাঙ্গাইলের সন্তান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু রাজধানী ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্ব পাওয়ায় টাঙ্গাইলবাসীর মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করছেন, জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা টুকুর ওপর ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্ব অর্পণ টাঙ্গাইলের জন্যও গর্বের বিষয়।
২৭ আগস্ট ২০২৬
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ বছরের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ থেকে ২০৭৫ সাল পর্যন্ত ৫০ বছরের একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি প্রতিনিধিদের (সিআর) সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের সেমিনার কক্ষে একাডেমিক মাষ্টার প্ল্যান প্রণয়ন কমিটির(Academic Master Plan Formulation Committee) আয়োজনে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) ও একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। সভায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির এক্সপার্ট সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ এবং কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন মো. তারিক একাডেমিক মাস্টার প্ল্যানের খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।এ সময় কমিটির সদস্য ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মহিউদ্দিন, সদস্য সচিব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সিআরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীদের সিআররা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ, বিভাগভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি সুবিধা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কারিকুলাম আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিকীকরণ, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা, আবাসন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ আগামি ৫০ বছরের একাডেমিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা, যুগোপযোগী কারিকুলাম, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব একাডেমিক পরিবেশ। আগামী ৫০ বছরে মাভাবিপ্রবিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের, গবেষণানির্ভর ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে এই একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
২৫ আগস্ট ২০২৬
শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
দৃষ্টি নিউজ:গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে তিনি এ শপথ গ্রহণ করেন। নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, অন্তবর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা।এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি কূটনীতিক, তিন বাহিনী প্রধান, সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে বাজানো হয় জাতীয় সংগীত। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় শপথের মূল আনুষ্ঠানিকতা। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।রাষ্ট্রপতির শপথ ও নতুন মন্ত্রীদের শপথকে কেন্দ্র করে পুরো বঙ্গভবন এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। মূলভবনসহ পুরো বঙ্গভবন এলাকা নতুন সাজে সাজানো হয়।নিরাপত্তার স্বার্থে বঙ্গভবন ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পোশাকে ও সাদা পোশাকে নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের নির্দিষ্ট পাস ও কয়েক দফা গাড়ি চেকিংয়ের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়েছে।
২১ আগস্ট ২০২৬
৯০ ভোট জেনেও কেন অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী!
দৃষ্টি নিউজ:রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট না থাকার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও অলি আহমদকে সরিয়ে নেয়নি জোট। বরং ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।জামায়াত নেতাদের বক্তব্য, এই নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের প্রার্থী থাকা এবং সংসদ সদস্যদের ভোটে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। অলি আহমদের প্রার্থিতার বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ইতোমধ্যে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।তিনি বলেন, ১১ দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চার ধারা তৈরির জন্য। তার ভাষায়, এখানে জয়-পরাজয় মুখ্য নয়; প্রতিদ্বন্দ্বিতাই মূল বিষয়।জামায়াতের এই নেতা বলেন, অতীতে সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিত। এবার সেই ধারার বাইরে গিয়ে ১১ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী থাকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।অলি আহমদের প্রার্থিতা নিয়ে জামায়াতের আরেকটি যুক্তি হলো, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ থাকলে নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেন, গণভোটের রায় কার্যকর হলে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ পেতেন এবং সেক্ষেত্রে অলি আহমাদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন।জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও বলা হচ্ছে, এই নির্বাচন শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সংসদে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান জানান দেওয়ার একটি সুযোগ। ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের পাওয়া ভোট ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তাদের শক্তির একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হবে। তবে বাস্তব ভোটের হিসাবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৯০ জন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে রয়েছেন। বিপরীতে বিএনপির রয়েছে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন। ফলে অলি আহমদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এরপরও প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে ভোটে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট।২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের জন্য ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ রেখে তফসিল ঘোষণা করে ইসি। বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাইয়ে বৈধ হলে কোনো প্রার্থীই প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ভোটগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
২০ আগস্ট ২০২৬
বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির দূত
:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::২০২৬ সালের বিশ্ব রাজনীতি ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চালচিত্র এক গভীর ও অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের তীব্র প্রভাব প্রমাণ করেছে সনাতন ধারার আবেগসর্বস্ব ও স্লোগানভিত্তিক রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ কার্যকারিতা হারিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার, জলবায়ু বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক নব্য-বাস্তবতার এই যুগে বাংলাদেশের টিকে থাকা এবং এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে সম্পূর্ণ নতুন এক রাজনৈতিক দর্শনের ওপর। বর্তমান বাস্তবতায় আবেগ নয় বরং বিজ্ঞানমনস্ক, দূরদর্শী এবং গবেষণানির্ভর ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা’-ই সংকটের গোলকধাঁধা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চলছে তীব্র মেরুকরণ। পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যুদ্ধ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক প্রভাবের বাইরে নয়। এই অবস্থায় কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন গভীর কৌশলগত বিশ্লেষণ, দক্ষ কূটনীতি এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি নির্ধারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়াতে হলে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে গবেষণালব্ধ। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের প্রচলিত কর্মসংস্থান কাঠামোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সনাতন শ্রমশক্তির ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার দিন শেষ। এখন প্রয়োজন মেধা-ভিত্তিক অর্থনীতি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে জাতি হিসেবে আমরা এক বিশাল বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুখে পড়ব। বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা এখানে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কারিগরি দক্ষতার উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল তৈরিতে পথ দেখাবে। তদুপরি, মহামারী-উত্তর অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আমাদের নব্য-বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাজার নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে বৈদেশিক ঋণের ব্যবস্থাপনা- সব ক্ষেত্রেই আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি খাতের নীতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রতিফলন এবং ডেটা-চালিত (data-driven) সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।চলতি ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং প্রযুক্তি, তথ্য ও অর্থনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ধারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের সস্তা শ্রমের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে মেধা ও দক্ষতার ওপর জোর দিতে হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জেনারেটিভ এআই এবং রোবোটিক অটোমেশনের কারণে শ্রমবাজার দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। যে সব দেশ প্রযুক্তির এই গতিপ্রকৃতি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে- তারা তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ছে। দেশের ভেতরে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে তুঙ্গে। সমকালীন তরুণ সমাজ সস্তা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবমুখী ও প্রায়োগিক রূপরেখা দেখতে চায়।টেকসই উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মেধাভিত্তিক ও তথ্য-উপাত্তনির্ভর রোডম্যাপের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান তিনটি চালিকাশক্তির নিরিখে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যেতে পারে- ক) আইটি সেক্টর: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও মেধার বিশ্বায়নে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিনির্ভর। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) সাম্প্রতিক সমীক্ষা ও ২০২৬ সালের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও করপোরেট খাতের প্রায় ২৫% মধ্যম সারির চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়বে, যদি না আমরা দ্রুত দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারি। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেঙ্গালুরু যেখানে বার্ষিক আইটি রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি এখনো ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বৃত্তে আটকে আছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০,০০০ আইটি গ্র্যাজুয়েট বের হলেও, বৈশ্বিক চাহিদার সাথে কারিকুলামের অমিলের কারণে প্রায় ৪২% গ্র্যাজুয়েট সরাসরি আন্তর্জাতিক মানের কাজ পাওয়ার যোগ্যতা হারাচ্ছেন। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় এজেন্ডায় এআই গভর্ন্যান্স, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং সেমিকন্ডাক্টর মাইক্রোচিপ ডিজাইনে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি। ভারতের আইআইটি (IIT) বা সিলিকন ভ্যালির আদলে বিশেষায়িত টেক-হাব তৈরি করে তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং থেকে উদ্যোক্তায় রূপান্তর করার মহাপরিকল্পনা নিতে হবে।খ) বৈদেশিক রেমিট্যান্স: বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রধানতম উৎস হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। তবে গত কয়েক দশক ধরে অনুসৃত ‘শুধু অদক্ষ শ্রমিক’ পাঠানোর কৌশল ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো (যেমন- সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০) এখন মেগা সিটি, পর্যটন ও হাই-টেক প্রজেক্টের দিকে ঝুঁঁকছে, যার ফলে সেখানে সাধারণ নির্মাণ শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত কমছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি দিলেও তাদের প্রায় ৭৫% থেকে ৮০% সম্পূর্ণ অদক্ষ। ফলে ফিলিপাইন বা শ্রীলঙ্কার একজন দক্ষ নার্স, প্রকৌশলী বা আইটি কর্মী যেখানে প্রতি মাসে গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ডলার দেশে পাঠান, সেখানে একজন বাংলাদেশি সাধারণ শ্রমিক কঠোর পরিশ্রম করেও পাঠাতে পারেন মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার। আমাদের রেমিট্যান্স নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নার্সিং, কেয়ার-গিভিং, আধুনিক ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রযুক্তিতে ডিপ্লোমাধারী দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করতে হবে। মেধাভিত্তিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন নতুন উন্নত দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করাই হবে আগামী দিনের রেমিট্যান্স সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। মুদ্দা কথা, অদক্ষ শ্রমের অবসান করে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।গ) কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। অসময়ী বন্যা, দীর্ঘায়িত খরা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ দেশের খাদ্য উৎপাদনকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছর দেশে আবাদি কৃষি জমি কমছে প্রায় ০.৫% হারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, স্মার্ট ও প্রিসিশন এগ্রিকালচার (Precision Agriculture) তথা প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে প্রবর্তন না করলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে প্রধান দানাদার শস্যের উৎপাদন ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এটি ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁঁকিতে ফেলবে। নেদারল্যান্ডসের মতো একটি ক্ষুদ্র দেশ যেখানে শুধু বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, গ্রিনহাউস প্রযুক্তি এবং ডাটানির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, আমাদেরও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, আইওটি (IoT) সেন্সর দিয়ে মাটির আর্দ্রতা মাপা এবং লবণাক্ততা ও খরা-সহিষ্ণু হাইব্রিড জাতের বীজ উদ্ভাবনে গবেষণাগারে বরাদ্দ দ্বিগুণ করতে হবে। রাজনীতি কেবল ক্ষমতা কেন্দ্রিক কৌশল বা জনসভার সস্তা করতালির মাধ্যম নয়; আধুনিক যুগে রাজনীতি হলো রাষ্ট্রপরিচালনা ও জনকল্যাণের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনটি বুদ্ধিবৃত্তিক স্তম্ভ অত্যন্ত জরুরি। যেমন- ১. থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতি (গবেষণা ও তথ্যনির্ভর পলিসি), ২. যাগ্যতার মূল্যায়ন (মেধাবীদের নীতি-নির্ধারণে আনা) এবং ৩. প্রযুক্তি-বান্ধব সুশাসন (দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল সেবা)। থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতির বিকাশ: রাজনৈতিক দলগুলোকে পেশী শক্তি ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা উইং বা ‘থিঙ্ক-ট্যাংক’ গড়ে তুলতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিদদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় পলিসি খসড়া তৈরি করতে হবে। যোগ্যতার মূল্যায়ন (Meritocracy): নীতিনির্ধারণী ও সংসদীয় পর্যায়ে চাটুকারিতা কিংবা আর্থিক লেনদেনের বদলে খাঁটি মেধা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হলে রাষ্ট্র পরিচালনার চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ সুশাসন: সরকারি ও প্রশাসনিক সব ধরনের সেবা সম্পূর্ণভাবে ব্লকচেইন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে একদিকে যেমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ হবে। এই রূপান্তরের জন্য তীব্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাহসের প্রয়োজন।বর্তমানে জটিল ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অর্থনৈতিক সমীকরণের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আবেগ কিংবা তাৎক্ষণিক লোকদেখানো সস্তা সিদ্ধান্ত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকট দূর করা অসম্ভব। অতীতে ভুল পরিকল্পনার মাশুল এই জাতিকে বহু বছর ধরে গুনতে হয়েছে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য সুনিশ্চিত করতে হলে আমাদের রাজনীতিকে হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক এবং রাষ্ট্রপরিচালনাকে হতে হবে দূরদর্শী ও বিজ্ঞানমনস্ক। মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং সুপরিকল্পিত রোডম্যাপের মাধ্যমেই বাংলাদেশ একটি স্বাবলম্বী, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে। তাই সময় ও ইতিহাসের অমোঘ দাবি মেনে দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়- চলমান সব সংকটের আবর্তে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির একমাত্র দূত’।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
২০ আগস্ট ২০২৬
বিন্না ঘাস বা ছন কী ও কেন এ নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের
দৃষ্টি ডেস্ক:বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে, পতিত জমি কিংবা চরাঞ্চলে অনায়াসে বেড়ে ওঠে এক ধরনের লম্বা ঘাস। নাম বিন্না ঘাস, যার পরিচিতি ভেটিভার নামেও। এতদিন পথের ধারে কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে পড়ে থাকা এই ঘাসই এবার নদীভাঙন, মাটির ক্ষয়, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন অবকাঠামো রক্ষায় বড় পরিসরে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মাটি শক্তভাবে আটকে থাকে এবং বৃষ্টির পানি বা স্রোতের কারণে মাটির ক্ষয় কমে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ঢাল, নদীর তীর, রাস্তার পাশ ও বাঁধ রক্ষায় এই ঘাস ব্যবহার করা হয়।এ কারণেই বাংলাদেশে কোন কোন প্রকল্পে বিন্না ঘাস ব্যবহার করা সম্ভব, তা যাচাই করতে সরকার টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে এই ঘাস ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম প্রায় দুই দশক ধরে বিন্না ঘাস নিয়ে গবেষণা করছেন। সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত এই গবেষক মনে করেন, প্রকৌশলগতভাবে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা গেলে বিন্না ঘাস সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে মাটির ক্ষয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।অধ্যাপক শরীফুল ইসলামের গবেষণা অনুযায়ী, বিন্না ঘাসের শিকড় অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা দুই থেকে চার মিটার পর্যন্ত মাটির গভীরে যেতে পারে। এই শিকড় মাটির কণাগুলোকে শক্তভাবে আটকে রাখে। ফলে ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশের মাটি সহজে ধসে পড়তে পারে না।বাংলাদেশে বিন্না ঘাস বেন্না ঘাস, খসখস কিংবা ছন নামেও পরিচিত। এটি একটি বহুবর্ষজীবী ঘাস। লম্বা ও সরু পাতার এই ঘাস ঘন ঝোপের মতো বেড়ে ওঠে এবং সাধারণত দেড় থেকে তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদের মতে, দেখতে সাধারণ হলেও বিন্না ঘাসের শিকড়ের কার্যকারিতা অসাধারণ। মাটির নিচে এর শিকড় জালের মতো ছড়িয়ে গিয়ে ভূমির বিভিন্ন স্তরকে ধরে রাখে। এ কারণেই ভূমিক্ষয় ও পাহাড়ধস ঠেকাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।শুধু মাটি ও অবকাঠামো রক্ষাই নয়, বিন্না ঘাসের অর্থনৈতিক ব্যবহারও রয়েছে। এর শিকড় থেকে সুগন্ধযুক্ত তেল পাওয়া যায়। সুগন্ধি, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সুগন্ধি পণ্য তৈরিতে এই তেল ব্যবহার করা হয়।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরেই ভেটিভার বা বিন্না ঘাসকে ভূমিক্ষয় নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে নদীর তীর, রাস্তার ঢাল, বাঁধ, পাহাড়ি এলাকা ও কৃষিজমি রক্ষায় এর ব্যবহার রয়েছে। দ্য ভেটিভার নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনালও ঢাল স্থিতিশীলতা ও ভূমিক্ষয় রোধে ভেটিভার ব্যবহারের জন্য প্রকৌশলভিত্তিক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।গবেষকদের মতে, বিন্না ঘাস লাগানোর কয়েক মাসের মধ্যেই এর শিকড় মাটির গভীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বৃষ্টির সময় ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশ দিয়ে পানির স্রোত নামার সময় শিকড়গুলো মাটিকে ধরে রেখে ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চরম ঠান্ডা থেকে প্রচণ্ড গরম-বিভিন্ন ধরনের পরিবেশেও এই ঘাস টিকে থাকতে পারে। বাংলাদেশে বিন্না ঘাসের ওপর দীর্ঘদিনের গবেষণায় ভূমিক্ষয়, পাহাড়ধস ও বাঁধ রক্ষায় এর সম্ভাবনা নিয়ে একাধিক কাজ হয়েছে।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সব জায়গায় বিন্না ঘাস দিয়ে বাঁধ বা মাটি রক্ষা করা সম্ভব নয়। খরস্রোতা নদীর তীব্র স্রোতের মুখে থাকা বাঁধে শুধু বিন্না ঘাস যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ, কংক্রিট ব্লক, রড বা অন্যান্য প্রকৌশলগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে পাহাড়ের ঢাল, রাস্তার পাশ, খালের পাড় কিংবা অপেক্ষাকৃত কম স্রোতের এলাকায় এটি কার্যকর হতে পারে।এই ঘাস ব্যবহারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো কম খরচ। প্রচলিত রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ব্লক বা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার অনেক সাশ্রয়ী হতে পারে বলে গবেষকদের দাবি। একই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাবও তুলনামূলক কম।বাংলাদেশে বিন্না ঘাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পেছনে রয়েছে নদীভাঙন, খাল রক্ষা ও অবকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের পাশাপাশি খালের পাড়, নদীর তীর, বাঁধ ও রাস্তার মাটি ক্ষয় থেকে রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।গত ৬ আগস্ট সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বিন্না ঘাসকে কংক্রিট ব্লক ও জিও-ব্লকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। নদী ও খালের পাড়, উপকূলীয় বাঁধ, চর ও হাওর এলাকার রাস্তা এবং সড়ক ও রেলপথের পাশের মাটি রক্ষায় এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বিন্না ঘাস ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এসব ফলাফলের ভিত্তিতে এখন বড় পরিসরে প্রকল্প নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবিত ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে নদীর তীর ও খালের পাড়ের ক্ষয়রোধ, উপকূলীয় বাঁধ সুরক্ষা, চর ও হাওর এলাকার রাস্তা স্থিতিশীল রাখা, পাহাড়ি ঢাল রক্ষা এবং সড়ক ও রেলপথের পাশের মাটি ক্ষয় কমানো। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রকল্পেও পর্যায়ক্রমে এর ব্যবহার বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।বুয়েটের গবেষকদের দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং দেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ইতিবাচক ফলের পর এবার সরকারি পর্যায়ে বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এতদিন মাঠে-ঘাটে অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই সাধারণ ঘাসই এখন বাংলাদেশের নদী, পাহাড়, বাঁধ ও সড়ক রক্ষায় একটি সাশ্রয়ী ‘প্রাকৃতিক প্রযুক্তি’ হিসেবে নতুন গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে।সূত্র: বিবিসি
২০ আগস্ট ২০২৬
প্রতিটি মানুষের কাছে টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দিতে হবে: আইসিটি মন্ত্রী
লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত ও মানসম্মত মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল অপারেটর রবি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি। বুধবার(১৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবি’র করপোরেট কার্যালয়ে ‘ঢাকা নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন- শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রাম পর্যায়ে উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নয়নে মোবাইল অপারেটরদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এসব উদ্যোগের সুফল যেন সরাসরি সাধারণ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা মডার্নাইজেশন প্রকল্পের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সারাদেশের গ্রাহকরাও একই ধরনের উন্নত সেবা পাবেন।গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কল ড্রপ, প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়া, ডাটা ও ব্যালান্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের আরও কার্যকর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্যাকেজের শর্ত, মেয়াদ এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা একা সবকিছু করতে পারে না; শিল্পখাতের সবাইকে একটি টিম হিসেবে কাজ করতে হবে। গত ছয় মাসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করা হয়েছে।উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ মোবাইল অপারেটরদের ডেটা প্যাকেজের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাদারা এবং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।রবির তথ্যমতে, বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে, কল ড্রপ ২০ শতাংশ কমেছে এবং বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরে ইনডোর কভারেজ ও সংযোগ আগের তুলনায় তিন গুণ উন্নত হয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্কের কারণে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচও ২০ শতাংশ কমেছে।
১৯ আগস্ট ২০২৬
অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:‘দুর্ঘটনা দুর্যোগে, সবার পাশে-সবার আগে’ স্লোগানে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন অংশীজনদের সমন্বয়ে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অনসাইড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(১৯ আগস্ট) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গনে ওই মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বিভিন্ন অংশীজনদের বাস্তবায়নে আয়োজিত ওই মক ড্রিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক শরীফা হক।এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো. এনায়েত হোসেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৯ আগস্ট ২০২৬
নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যানি, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ
লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় সব পদ ও মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে তাকে। মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে জরুরি রদবদল এনেছে সরকার। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে সরকারের নীতি-নির্ধারণী সূত্রে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের পর এসব দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে। অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন আহমেদের জায়গায় নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের সংসদীয় ও প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তার ছেড়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই দ্রুততম সময়ে নতুন এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
১৩ আগস্ট ২০২৬
মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী
দৃষ্টি নিউজ:বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীb হওয়ার কারণে তিনি দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’রিজভী আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করেন।এ সময় দলের যুগ্ম-মহাসচিবসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ আগস্ট ২০২৬
‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায়, বাকিডি যায় না’ বলা সেই পুলিশ চাকরি থেকে বরখাস্ত
দৃষ্টি নিউজ:‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এই বক্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার ইকবাল হোসাইনকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে এ শাস্তি দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে।খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ইকবাল হোসাইন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।গণমাধ্যমের হাতে আসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও ইকবাল হোসাইন কোনো জবাব দেননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে অভিযোগ তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। পরে তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশন ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়। এরপর বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে ইকবাল হোসাইনসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড অনুমোদনের প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
১২ আগস্ট ২০২৬
সুখবর দিল ফেসবুক
দৃষ্টি নিউজ:ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধের পদ্ধতিতে দেশের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ঋণ বা ডেবিট কার্ডের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। এই সুবিধা এখনো সবার জন্য চালু হয়নি, তবে পরীক্ষামূলকভাবে অনেক ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বিল সফলভাবে পরিশোধ করেছেন।বিভিন্ন ব্যবহারকারীর শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার বিল পরিশোধের অংশে ব্যাংক কার্ডের পাশাপাশি বিকাশের নামও যুক্ত হয়েছে। কয়েকজন ব্যবহারকারী এই পদ্ধতিতে বিল পরিশোধ করতে পেরেছেন বলেও জানা গেছে।বাংলাদেশে ফেসবুকের বিজ্ঞাপনের বিল দিতে আন্তর্জাতিক কার্ড, দ্বৈত মুদ্রা সুবিধা এবং বিভিন্ন ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হতো। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও এই প্রক্রিয়া ছিল ব্যয়বহুল ও জটিল। বিকাশ যুক্ত হলে স্থানীয় মুদ্রায় আরও সহজে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মেটা সাধারণত নতুন বিল পরিশোধ সুবিধা ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। তাই এখনো এটি সব ব্যবহারকারীর কাছে দৃশ্যমান না হলেও পরীক্ষা সফল হলে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মেটার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুবিধা কবে সবার জন্য চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরীক্ষামূলকভাবে এই সুবিধা চালুর উদ্যোগকে বাংলাদেশের ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১২ আগস্ট ২০২৬
‘দূষণ’ হয়ে উঠছে সম্পদ
:: সৈয়দা বদরুন নেসা ::ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দাঁড়ালে যা দেখা যায় তা শুধু দূষণ নয়, সেখানে আসলে কোটি টাকার কাঁচামালও ভাসছে। প্রতিটি পানির বোতল, প্রতিটি পলিথিন ব্যাগ, প্রতিটি প্লাস্টিকের চেয়ার- শুধু বর্জ্য নয়, এক একটি নতুন শিল্পের ভিত্তি হতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে ‘দূষণকে’ সম্পদে পরিণত করেছে। অথচ বহুমুখী দূষণে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশের এই অপার সুযোগ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।বিষয়টি শুধু পরিবেশ সুরক্ষার নয়, বরং তিনস্তরীয় একটি ব্যবসায়িক মডেল। যেখানে একই প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে একসঙ্গে তিনটি আয়ের উৎস তৈরি করা সম্ভব। প্রথমত, ফার্নিচার হিসেবে বিক্রি করা যাবে। দ্বিতীয়ত, কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করা যাবে। আর তৃতীয়ত সরকারি পরিবেশ প্রণোদনা। এসব মিলিয়ে যে মডেল দাঁড়ায়, তা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক চেয়ার তৈরিতে যতটুকু কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয়, তা কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করলে চেয়ারের দামের অতিরিক্ত ২০-৩০ শতাংশ আয় আসতে পারে।প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে ফার্নিচার তৈরির মূল প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ। সংগ্রহ করা এইচডিপিই (উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন) ও পিপি (পলিপ্রোপিলিন) ধরনের প্লাস্টিক প্রথমে পরিষ্কার করা হয়। তারপর নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলিয়ে মোল্ডে ঢালা হয়। ঠান্ডা হলে বেরিয়ে আসে মজবুত ফার্নিচার, যা কাঠের চেয়ে টেকসই, পানিরোধী এবং পোকামাকড়মুক্ত।এসব পণ্যের বিশেষত্ব হলো এগুলো পুনরায় গলিয়ে নতুন করে ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ এটি সত্যিকারের সার্কুলার ইকোনমি বর্জ্য। যা শেষ হয় না, রবং রূপান্তরিত হয়।বাজারে এই পণ্যগুলোর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি অফিস ও পার্কে এই ধরনের টেকসই ফার্নিচারের জন্য ক্রয় নীতি তৈরি হচ্ছে। ইউরোপে এসব পণ্যের বাজার ইতোমধ্যে বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বিশেষত কম দামের কারণে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অনেক বেশি।দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে কার্বন ক্রেডিটের কথা। যা পরিবেশ রক্ষার আন্তর্জাতিক মুদ্রা। যখন কোনো উদ্যোগ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করে বা কার্বন শোষণ করে, তখন সেই পরিমাণটি একটি ক্রেডিট হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা যায়। প্রতিটি ক্রেডিটের অর্থ হচ্ছে এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয়।প্রশ্ন হচ্ছে, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং এখানে কীভাবে কাজ করছে। মূলত, নতুন প্লাস্টিক তৈরিতে যে কার্বন ডাই-অক্সাইড খরচ হতো, তা রিসাইক্লিং দিয়ে বাঁচানো হচ্ছে। এই ‘বাঁচানো’ কার্বন ডাই-অক্সাইড-ই হলো ক্রেডিটের উৎস। এক টন প্লাস্টিক রিসাইকেল করলে প্রায় ১ দশমিক পাঁচ থেকে দুই টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয় অর্থাৎ সমপরিমাণ ক্রেডিট।কার্বন ক্রেডিট বিক্রির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে স্বীকৃত দুটি সংস্থা হচ্ছে- গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড এবং ভেরা (ভিসিএস-ভেরিফায়েড কার্বন স্ট্যান্ডার্ড)। সংস্থা দুটো প্রকল্প যাচাই করে সার্টিফিকেট দেয়। একবার সার্টিফিকেট পেলে ‘এক্সপ্যানসিভ’, ‘সাউথ পোল’ বা ‘ক্লাইমেট ট্রেডের’ মতো আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে ক্রেডিট বিক্রি করা যায়।অবশ্য, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া বেশ জটিল হলেও অসম্ভব নয়। একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ৬-১২ মাসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। সহজ বিকল্প হিসেবে দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি যেমন গার্মেন্টস রপ্তানিকারক বা ব্যাংক তাদের ইএসজি (পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসন) লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরাসরি কার্বন ক্রেডিট কিনতে পারে।বেশি নয়, মাত্র ৫-১০ লাখ টাকা বিনিয়োগে দেশে প্লাস্টিক ফার্নিচার ইউনিট চালু করা সম্ভব। যেখানে প্রথম বছর ফার্নিচার বিক্রিতে মনোযোগ দিতে হবে। দ্বিতীয় বছরে এসে শুরু করতে হবে উৎপাদন ডেটা সংগ্রহ। তৃতীয় বছরে কার্বন ক্রেডিট নিবন্ধনের আবেদন করা যেতে পারে। এভাবে তিন বছরের রোডম্যাপ অনুসরণ করলে দেশেই একটি স্থায়ী ও লাভজনক সবুজ ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব।বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার ক্রমেই সবুজ উদ্যোগকে নীতিগত সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন ‘সবুজ সাপ্লাই চেইন’ চাইছেন। বিশেষত ইউরোপীয় ক্রেতারা পণ্যের কার্বন ফুটপ্রিন্ট দেখছেন।এই প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক থেকে ফার্নিচার ও কার্বন ক্রেডিটের মডেলটি শুধু একটি ব্যবসা নয় দেশের বৃহত্তর পরিবেশগত রূপান্তরেরই একটি অংশ। যেসব উদ্যোক্তা এই পথে হাঁটবেন, তারা কেবল মুনাফাই করবেন না, হয়ে উঠবেন একটি নতুন শিল্পের পথপ্রদর্শকও।বর্জ্য বিষয়ে আমাদের গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই বদলাতে হবে। সময়েরও দাবি সেটাই।কারণ বর্জ্য এখন আর আমাদের সমস্যা নয়, বরং সম্ভাবনাময় এক শিল্পের কাঁচামাল। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, পানি ও জলবায়ু গবেষক।
১২ আগস্ট ২০২৬
স্মৃতির ক্যানভাসে বিস্মৃতির দাগ
:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::বাঙালির জাতিগত মনস্তত্ত্বের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো তার বিস্মৃতিপ্রবণতা। তীব্র আবেগ এবং দ্রুত সবকিছু ভুলে যাওয়ার এক আত্মঘাতী মানসিকতা এই জনপদের মানুষের মজ্জাগত। ফরাসি দার্শনিক আর্নেস্ট রেনান তাঁর বিখ্যাত ‘হোয়াট ইজ এ নেশন?’ প্রবন্ধে বলেছিলেন, ‘জাতি গঠনে যেমন যৌথ স্মৃতি প্রয়োজন, তেমনি অনেক কিছু ভুলে যাওয়াও দরকার।’ কিন্তু বাঙালির ক্ষেত্রে এই ‘ভুলে যাওয়া’ কোনো দার্শনিক প্রয়োজন নয় বরং এক রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাধি। যে জাতি রক্তের নদী পেরিয়ে তার অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষা করে, সেই জাতিই কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই রক্তের ঋণ এবং ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা বিস্মৃত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকবদলে বাঙালির এই বিস্মৃতির ধরণ এবং তার চড়া মূল্য দেওয়ার খতিয়ান বিশ্লেষণ করা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এক অতীব জরুরি বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণাধর্মী তাগিদ।১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের আত্মত্যাগ বাঙালিকে একটি নতুন ধর্মনিরপেক্ষ জাতিসত্তার পরিচয় দেয়। এই আন্দোলন শুধু ভাষার ছিল না, এটি ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম তীব্র সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আঘাত। ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালি রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার ঠিকই আদায় করেছিল, কিন্তু তার মূল চেতনা ধরে রাখতে পারেনি। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর যে আইনি ও নৈতিক অঙ্গীকার ছিল, তা আজ দীর্ঘ সাত দশকেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের উচ্চ আদালত, উচ্চশিক্ষা এবং করপোরেট ও প্রশাসনিক স্তরে বাংলা ভাষার পদাঙ্ক নিশ্চিত করা যায়নি। একুশে ফেব্রুয়ারি এলে আমরা যে তীব্র আবেগ দেখাই, বছরের বাকি ৩৬৪ দিন তা ইংরেজি বা ভিনদেশি ভাষার আগ্রাসনে হারিয়ে যায়। ভাষা আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ভুলে গিয়ে সমাজ বারবার মৌলবাদ ও সংকীর্ণতার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা এবং ছাত্র সমাজের ১১ দফার ভিত্তিতে সংঘটিত হয় এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান। আসাদ, ডক্টর শামসুজ্জোহা, মতিউরের আত্মত্যাগের মুখে আইয়ুব খানের লৌহকঠিন সামরিক জান্তা পতন ঘটাতে বাধ্য হয় এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু সসম্মানে মুক্তি পান। এই আন্দোলন বাঙালিকে শিখিয়েছিল কীভাবে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করতে হয়। ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছিল নাগরিক অধিকার ও ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে আপসহীন হতে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা দ্রুতই ভুলে যাই আইয়ুবীয় স্টাইলের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার কুফল। ফলে স্বাধীন রাষ্ট্রেও বারবার সামরিক শাসন বা বেসামরিক একনায়কতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। যে ছাত্র সমাজ ও জনতা স্বৈরাচারের তখত উল্টে দিয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলের পর তারাই আবার নতুন কোনো শাসকের অন্ধ ভক্তে পরিণত হয়েছে। স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ের মূল মন্ত্র- ‘গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ বাঙালি বারবার ভুলে গেছে।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে শুরু হওয়া গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অর্জিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম এবং কোটি মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর মধ্য দিয়ে এই স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল তিনটি- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। স্বাধীনতার পর বাঙালির ভুলে যাওয়ার অভ্যাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও বীভৎস বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। যে জাতি কিছুদিন আগেও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়েছিল, তারা এক অদ্ভুত জড়তা, উদাসীনতা ও বিস্মৃতির শিকার হলো। এরপর শুরু হলো ইতিহাসের উল্টোরথ যাত্রা। মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নিত ঘাতক-দালাল, রাজাকার ও আলবদরদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুনর্বাসিত করা হলো; তাদের গাড়িতে ওড়ানো হলো লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকা। দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ঢেকে তরুণ প্রজন্মকে রাখা হলো সত্য থেকে দূরে। সবচেয়ে বড় বিস্মৃতি ঘটল মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাক্সক্ষায়- সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাষ্ট্রে এক চরম ক্রনি-ক্যাপিটালিজম বা লুণ্ঠনমূলক অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হলো।নয় বছরের সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদ সরকারের পতনের লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে গড়ে ওঠে এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট এবং বামপন্থীদের ৫ দলীয় জোট মিলে ঘোষণা করে ‘তিন জোটের রূপরেখা’। এই রূপরেখার মূল ভিত্তি ছিল- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, স্বৈরাচারী ও কালো আইন বাতিল এবং টেকসই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা। নূর হোসেন, ডা. মিলনের রক্তের বিনিময়ে ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারের পতন ঘটে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর তিন জোটের সেই ঐতিহাসিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ক্ষমতার চেয়ারে বসার পরপরই দলগুলো আবার পরমতসহিষ্ণুতা ভুলে গিয়ে পারস্পরিক প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করে। সংসদকে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে চলে একের পর এক সংসদ বয়কট ও রাজপথের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি। রূপরেখায় যে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা রূপ নেয় দলীয়করণ, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র এবং বিচার বিভাগের টুঁটি চেপে ধরার খেলায়। বাঙালি ভুলে গেল যে, গণতন্ত্র কেবল পাঁচ বছর পর পর ভোট দেওয়ার উৎসব নয়, এটি একটি নিত্যদিনের চর্চা ও সংস্কৃতির নাম।দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একচ্ছত্র কর্তৃত্ববাদী শাসন, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, গুম-খুন, তীব্র অর্থনৈতিক লুণ্ঠন, মেগা প্রজেক্টের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে দেশে এক চরম ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছিল। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গর্জে ওঠে দেশের ছাত্র-জনতা। কোটা সংস্কার আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া এই সংগ্রাম সরকারি বাহিনীর নজিরবিহীন ও নৃশংস দমনপীড়নের মুখে রূপ নেয় এক দফার গণঅভ্যুত্থানে। আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ফারহান ফাইয়াজ, ওয়াসিমসহ শত শত শহীদের আত্মত্যাগ এবং হাজারো মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ছাত্র-জনতার এই নজিরবিহীন বিজয়কে অভিহিত করা হয় ‘চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে। এই আন্দোলন রাষ্ট্র মেরামতের এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট দেয়।বাঙালির ভুলে যাওয়ার সহজাত অভ্যাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন চলছে। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি ফ্যাসিবাদের স্থায়ী অবসান এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আন্দোলনের রক্ত শুকানোর আগেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষাক্ত লক্ষণগুলো আবার দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দলীয়করণ এবং ভিন্নমতের ওপর চড়াও হওয়ার প্রবণতা সমাজ থেকে পুরোপুরি দূর করা যায়নি। যে তরুণরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রকে নতুন পথ দেখাল, তাদের সেই পবিত্র আত্মত্যাগকে ভুলে গিয়ে সমাজ যদি আবার দলীয় সংকীর্ণতা, সুবিধাবাদ ও মেরুকরণের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়, তবে এই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনও ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। পূর্বসূরিদের মতো চব্বিশের প্রজন্মও যদি ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায়, তবে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও বেদনাদায়ক বিস্মৃতি।ইতিহাসের খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যায়, বাঙালি লড়তে জানে, বুক পেতে রক্ত দিতে জানে, কিন্তু অর্জিত বিজয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে ধরে রাখতে জানে না। এর প্রধান কারণ- আমরা ইতিহাসের আবেগকে সস্তা স্লোগানে রূপান্তর করি, কিন্তু তার গভীর শিক্ষাকে ধারণ করি না। বিজয়ের পর আমরা এক ধরনের সাময়িক আত্মতুষ্টিতে ভুগি এবং দ্রুতই সব ভুলে গিয়ে আবার পুরোনো ভুলের ফাঁদে পা দিই। যদি আমরা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে আগের আন্দোলনগুলোর মতো বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে দিতে না চাই, তবে আমাদের এই ‘সহজাত ভুলে যাওয়ার রোগ’ থেকে চিরতরে মুক্ত হতে হবে। প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁকবদলের শহীদদের স্মৃতি কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায়, স্মৃতিসৌধে বা নামফলকে বন্দী না রেখে- তাদের মূল আকাক্সক্ষাকে রাষ্ট্রীয় নীতি, সংবিধান ও নাগরিক জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। বাঙালিকে ‘স্মৃতিভুক’ জাতি হওয়া বন্ধ করতে হবে; কারণ যে জাতি বারবার ইতিহাস ভুলে যায়, ইতিহাস তাকে বারবার স্বৈরাচারের শৃঙ্খলে বন্দী করে শাস্তি দেয়।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
১২ আগস্ট ২০২৬
নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের
ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু:সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে পরিচালিত সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশ শুক্রবার(৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।এদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ মহাসমাবেশে নিরাপদ সড়ক, রেলপথ ও নৌপথ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নীতি, গবেষণা, প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে নিসচা প্রণীত ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।দিনব্যাপী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়।ফিরে দেখা- ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয় সহধর্মিণী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় দায়িত্বে রূপ দেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর গত ৩৩ বছরে নিসচা শুধু একটি সংগঠন নয় বরং একটি জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এই পথচলায় সংগঠনটি জনসচেতনতা সৃষ্টি, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কার্যক্রম, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, নীতিগত সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন এবং দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়’নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চলচ্চিত্রের মহানায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ৩৩ বছরের এ আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীর আত্মত্যাগ আন্দোলনটিকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের জীবন রক্ষার এই আন্দোলনে আরও কিছুদিন কাজ করার তৌফিক দান করেন। আমিও দেশের প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করছি।’চিত্র নয়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো দাবি নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই; আমরা মানুষের জীবনের পক্ষে।’তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও দৃঢ় বাস্তবায়ন।’তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে না পারবে, ততদিন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য কোনো সমালোচনা নয় বরং সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে একটি দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’গবেষণা, প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা এখন আর শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নির্ভুল তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।’তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তারা দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তারা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।’মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে একটি কেন্দ্রীয় সড়ক দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার (National Road Crash Database) গড়ে তোলার, যেখানে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, রেলওয়ে এবং নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার তথ্য সমন্বিত হবে। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’তিনি বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগ, স্পিড ক্যামেরা, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল-টাইম দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ তথ্য ও জনসম্পৃক্ততা সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া ১২ দফা সুপারিশপত্র কোনো দাবিপত্র নয় বরং একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা।’নিসচার তথ্যভান্ডার কাজে লাগানোর আহ্বাননিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত দুর্ঘটনার তথ্য, জনমত, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা নিসচার অন্যতম বড় শক্তি।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করেন না; তারা দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, স্থানীয় সমস্যা এবং মানুষের প্রত্যাশা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত করেন। এই বিশাল তথ্যভান্ডার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার প্রায় ১২০টি শাখা এবং হাজারো সড়কযোদ্ধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। সরকার চাইলে এই স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।’সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগতনিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত 'Safe System Approach'-এর আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা, গতি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়ন, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালীকরণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জাতীয় অঙ্গীকারকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।নিসচার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ নিরাপদ, টেকসই ও মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।সংস্কৃতির মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানপ্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নয়; মানুষের মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমেও সম্ভব। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি বলেন, ‘নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি, পথনাটক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন হয়ে উঠবে।’মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরাপদ সড়ক বিষয়ক সচেতনতামূলক নাট্যোৎসব, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রচারণা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। নিরাপদ সড়ক একটি সামাজিক আন্দোলন আর সামাজিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সংস্কৃতির বিকল্প নেই।’আইন, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বউদ্বোধরী বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি বলেন, ‘সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’তিনি বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মতো সংগঠনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।’গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয়ের আহ্বানবিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদান অনন্য। ব্যক্তিগত বেদনাকে তিনি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন, যা আজ নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরঅনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর পক্ষ থেকে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ তুলে দেওয়া হবে।সুপারিশপত্রে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, চাঁদাবাজি ও পরিবহন সিন্ডিকেট নির্মূল, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ, সড়ক-রেল-নৌপথের সমন্বিত নিরাপত্তা, শিক্ষাক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপদ সড়ককে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) মনে করে, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। রাষ্ট্রের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, সুশাসন, গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নিসচা সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। সংগঠনটি আশা করে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মানবিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবহন খাতের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নিসচার প্রায় ১২০টি শাখার প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রতিনিধি ও সড়কযোদ্ধা এতে অংশ নেন। পরে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
০৮ আগস্ট ২০২৬
মধুপুর গড়ের বিপন্ন ‘আচিক’ ভাষা রক্ষার দাবি
বুলবুল মল্লিক: বৈশ্বিক ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সংগতি রেখে টাঙ্গাইলের আদিবাসী-অধ্যুষিত মধুপুর গড় অঞ্চলেও রোববার(৯ আগস্ট) নানা আয়োজনে পালন করা হবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। আদিবাসীদের হাজার বছরের ঐতিহ্যগত জ্ঞান, জীবন ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে জাতিসংঘ এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান ও স্বীকৃতি: জীবন ও কল্যাণ সুরক্ষা’ (Honouring Indigenous Midwives: Safeguarding Life and Well-being)। দিবসটি উপলক্ষে মধুপুরের কয়েকটি আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আদিবাসী দিবসের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এমপি।দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আনন্দের আবহেও মধুপুরের আদিবাসীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় তাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির মূল ধারক ও মাতৃভাষা ‘আচিক’ (Achik) আজ নিজ ভূখণ্ডেই চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার মুখে পড়েছে। মধুপুর গড় অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী পাড়া ও গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, দিবসটি ঘিরে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ শিশুই তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা বলতে পারছে না। স্থানীয় প্রবীণদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, অতীতে এ অঞ্চলের গারো আদিবাসীরা আচিক ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানতেন না বা ব্যবহার করতেন না। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং বেঁচে থাকার তাগিদে এসেছে আমূল পরিবর্তন। জীবন-জীবিকা ও উচ্চশিক্ষার জন্য বনের সন্তানরা আশপাশের বাঙালিপ্রধান এলাকায় আসতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে আদিবাসী জনপদেও বাঙালিরা এসে বসতি স্থাপন করায় এক সময়ের এই বনাঞ্চলের মূল অধিবাসীরা আজ নিজ ভূমিতেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছেন। তারা জানায়, গারো শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে সম্পূর্ণ বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করতে হয়। কর্মজীবনে এসেও অফিস-আদালতসহ সব প্রাত্যহিক কাজেই তাদের বাংলা ব্যবহার করতে হয়। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের অভাবে পরিবার ও সমাজ থেকে আচিক ভাষার চর্চা প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে যাচ্ছে।আদিবাসী নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সোয়া লাখ গারো আদিবাসী রয়েছেন- যার মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারের বসবাস টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় অঞ্চলে। সম্প্রতি জলছত্র ও জয়েনশাহী সংলগ্ন পাড়াগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলপড়ুয়া শিশুরা তাদের মাতৃভাষা ভালোভাবে বলতেই পারে না। কেউ কেউ নিজ বাড়িতে মা-বাবার মুখে শুনে এই ভাষা কিছুটা বুঝতে শিখলেও, তারা নিজেরা আচিক ভাষায় কোনো উত্তর দিতে পারে না। মা-বাবা নিজের ভাষায় ডাকলেও উত্তর আসে বাংলায়।আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে মধুপুরের জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের নেতারা জানায়, জাতিসংঘের মূল থিম বা প্রতিপাদ্যের চেতনা তখনই সার্থক হবে যখন আদিবাসীদের ভাষা ও জীবন সুরক্ষার বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হবে। তারা অবিলম্বে জলছত্রসহ মধুপুর গড়ের সব সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গারো শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।মধুপুরের আদিবাসী নেতা অজয় এ মৃ জানান, আচিক ভাষার লিখিত কোনো বর্ণমালা নেই। কথিত আছে, দুর্ভিক্ষপীড়িত তিব্বত অঞ্চল ত্যাগ করে গারোরা যখন ভারতীয় উপমহাদেশে আসছিলেন, তখন যাঁর কাছে পশুর চামড়ায় লিখিত আচিক ভাষার পুঁথি-পুস্তকাদি ছিল, সেই ব্যক্তি পথে ক্ষুধার জ্বালায় সব পুঁথি-পুস্তক সেদ্ধ করে খেয়ে ফেলেন। তিনি সম্পূর্ণ ব্যাপারটি গোপন রাখেন। এ উপমহাদেশে আগমন ও বসতি স্থাপনের দীর্ঘদিন পরে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। কিন্তু তত দিনে গারো বর্ণমালা বিস্মৃতির অতল গর্ভে হারিয়ে যায়। কারণ, এ উপমহাদেশে প্রবেশের পর নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং স্থায়ী বাসযোগ্য স্থান নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ করে অভিজ্ঞ গারোরা প্রাণ হারান। ফলে আচিক ভাষার বর্ণমালা চিরতরে হারিয়ে যায়। তবে গারোদের মুখে মুখে আচিক ভাষার প্রচলন ছিল।এ প্রসঙ্গে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন মধুপুর শাখার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ঝুমুর মৃ জানান, মাতৃভাষা ধরে রাখার জন্য তারা নিজেরা বাড়িতে সব সময় আচিক ভাষায় কথা বলেন। তবু তাদের ভাষা রক্ষা করা যাচ্ছে না। বাংলার সঙ্গে ক্রমেই মিশে যাচ্ছে।জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে গড় এলাকায় ১২টি স্কুল চালু করা হয়েছিল; যেখানে গারো শিশুদের আচিক ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হতো। তিন বছর চলার পর দাতা সংস্থার অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়।আদিবাসী লেখক রাখী ম্রং জানান, ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষা নীতিমালায় শিশুদের তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় শিক্ষাব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গারো শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো এ ভাষা হারিয়ে ফেলবে।
০৮ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল- জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন, হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, র্যালি, আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, মোনাজাত ইত্যাদি। এদিন সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে জেলা সদরের হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, জুলাই শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন ও মোনাজাত শেষে র্যালি নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতি মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ। এছাড়া আলোচনা সভায় প্রায় ৩৫জন জুলাইযোদ্ধা বক্তব্য রাখেন।ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল- স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মোনাজাত ও শিক্ষার্থীদের হলসমূহে বিশেষ খাবারের আয়োজন ইত্যাদি।কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
০৫ আগস্ট ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ও আর্থিক অনুদান বেড়েছে
দৃষ্টি নিউজ:বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের মাসিক সম্মানি ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রদেয় বিশেষ অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সুরক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ও কল্যাণ আরও জোরদার করতেই সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।নতুন হার অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। এছাড়া তারা উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা পাবেন। এছাড়া শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও মাসিক ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
০৪ আগস্ট ২০২৬
যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে
দৃষ্টি নিউজ:যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম। বোর্ড সদস্যরা সশরীরে এবং ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাবের ওপর মতামত দেন।বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু সাইটে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি ইজারা দেওয়া হবে। সেখানে ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।সভার শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বোর্ডের আলোচ্যসূচি এবং পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পরে বোর্ড সদস্যরা বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।এ ছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন আরও কার্যকর করতে পুনর্বাসন ভিলেজে ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বহাল এবং সেতু নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণায় দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে সেন্টার ফর ব্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (সিবিআরটি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমূলক সুবিধা আরও যুগোপযোগী করতে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট বিধিমালা, ২০১০’-এ ‘বার্ষিক বৃত্তি প্রদান’-এর পরিবর্তে ‘বার্ষিক শিক্ষা অনুদান সহায়তা’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি সময়ের দাবি এবং এ ধরনের প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মন্ত্রী বোর্ডের গৃহীত সব সিদ্ধান্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, যমুনা সেতু এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে অব্যবহৃত সরকারি জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
০৪ আগস্ট ২০২৬