বিনোদন

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

মোস্তফা কামাল নান্নু: এক সময় ব্যাট হাতে মাঠ মাতানো ক্রিকেটার ইকবাল খান এখন শয্যাশায়ী। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দুই পায়ে স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কথা বলাও। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। এর মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এখন বৃদ্ধ বাবা-মা, বন্ধু ও স্বজনরাই তাঁর একমাত্র ভরসা।ইকবাল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রতন খানের ছেলে। এক সময় বিকেল হলেই ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে ছুটতেন তিনি। ক্রিকেট ও ফুটবলে পারদর্শী ইকবালের খেলা দেখতে গ্রামের মানুষ ভিড় করতেন। পাশাপাশি ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে করে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইকবাল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। ধারদেনা করে কয়েকবার চিকিৎসা করানো হলেও অর্থের অভাবে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে যান। এখন বাড়ির একটি ঘরেই কাটছে তাঁর দিন। কথা বলতে না পারলেও চোখের দৃষ্টিতে নিজের কষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।ইকবালের বাবা রতন খানের বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও চায়ের দোকান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে ওষুধ ও পরিবারের খাবার জোগাড় করেন। ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করতে করতে নিঃস্ব পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বসতভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। ইকবালের বন্ধু ও স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তাঁকে সহায়তা করেছেন। তবে চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়।পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ইকবাল তাঁর বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। মেধাবী ও বিনয়ী এই তরুণের এমন অবস্থা দেখে কষ্ট হয়। তাঁর চিকিৎসায় সরকারি ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, ইকবালের অসুস্থতার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তাঁকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।ইকবাল এখন শুধু চিকিৎসা ও মানুষের সহযোগিতা চান। তাঁর পরিবারের আশা, সহায়তা পেলে আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন তিনি।

১৯ আগস্ট ২০২৬

অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইল শহরের একসময়ের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী ‘ভাসানী হল’ আজ ধুলোবালি, ভাঙাচোরা দেয়াল আর তালাবদ্ধ কক্ষের নিস্তব্ধতায় ঢাকা। দীর্ঘদিনের অযত্ন, অবহেলা, সংস্কারের অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এই মিলনায়তনটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। যে প্রাঙ্গণ একসময় নাটক, সংগীত, নৃত্য, কবিতা, বইমেলা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক নানা আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকত, সেখানে এখন চেপে বসেছে এক ভীতিকর পরিবেশ। বর্তমানে দিনে হলটির বারান্দায় বসেছে পানের দোকান আর প্রাঙ্গণটি ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাকস্ট্যান্ড হিসেবে। সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা চলে যায় অন্ধকার ও অপরাধীদের দখলে; হয়ে ওঠে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড্ডাখানা। এতে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ বাড়ছে।জানাগেছে, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ‘টাঙ্গাইল টাউন হল’ নামে এটি নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ হাবিবুল্লাহ্-এর অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র দুই বছরে এটি বাস্তব রূপ লাভ করে। পরে ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান। পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে সর্বসম্মতিক্রমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ভাসানী হল’। এরপর থেকেই এটি জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায় এবং অনন্য ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।স্থানীয় প্রবীণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, আগে পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল। বিভিন্ন উপলক্ষে তারা নাটকের আয়োজন করত এবং পুরো টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই ভাসানী হলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। প্রায় ১,০০০ আসনবিশিষ্ট এই আধুনিক মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দশক ধরে টাঙ্গাইলের নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক সমাবেশের প্রধান ভেন্যু ছিল এটি। প্রতি বছর ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল এখানে এসে নাট্যোৎসব করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সংগঠনগুলো হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ভবনটি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অবশেষে প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় জেলার অন্যতম বড় এই মিলনায়তনের কার্যক্রম।স্থানীয়রা মনে করেন, ভাসানী হল শুধু একটি কংক্রিটের ভবন নয়; এটি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারকটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে প্রায় এক দশক আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ২০১৫ সালেও একবার এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে হলের দেয়ালে দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে, ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। হলের ভেতরের অধিকাংশ কক্ষ দীর্ঘ বছর ধরে তালাবদ্ধ ও ধুলোবালির স্তূপে পরিণত হয়েছে।টাঙ্গাইলের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মতে, ভাসানী হল বন্ধ হওয়ার পর থেকে জেলার বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বড় পরিসরে কোনো অনুষ্ঠান বা নাটক মঞ্চস্থ করার মতো বিকল্প কোনো আধুনিক মিলনায়তন পুরো শহরে আর নেই। ২০১৫ সালে একবার হলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন আজ অবধি দেখা যায়নি। দীর্ঘ অবহেলার পর চলতি বছরের ১২ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক হলটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন।টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুরকার-গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু জানান, ভাসানী হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এক হাজার আসন বিশিষ্ট এই মিলনায়তনটিতেই জেলার সব সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। শুধু তাই নয়, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করতো। এছাড়া এ ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র ছিল হলটি।তিনি আক্ষেপ করে জানান, আগের মতো বড় বড় অনুষ্ঠান তারা করতে পারেন না। অনুষ্ঠান করতে এখন শিল্পকলা একাডেমিতে যেতে হয়- শিল্পকলা একাডেমির অবস্থান শহরের কেন্দ্রবিন্দুর বাইরে, সেখানে রাতে মানুষ যেতে চায়না।কবি মাহমুদ কামাল জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত এ হলটিকে পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করার দাবি ছিল। হলটি মওলানা ভাসানীর নামে থাকায় বিগত সরকার সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, ভাসানী হলটি পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হোক।টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান জানান, টাঙ্গাইল একটি সাংস্কৃতিক নগরী এবং পুরাতন জেলা। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিকচর্চার অন্যতম প্রধান জায়গা হচ্ছে ভাসানী হল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে গতিশীল রাখার জন্য ভাসানী হল খুবই প্রয়োজন।তিনি আরো জানান, মাদকের ছোবল এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে ক্রীড়া অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তার জন্য একটি ভালো অডিটরিয়াম প্রয়োজন। তিনি দ্রুত ভাসানী হলের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের দাবি করেন।টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুননির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

১৭ আগস্ট ২০২৬

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু:সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে পরিচালিত সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশ শুক্রবার(৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।এদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ মহাসমাবেশে নিরাপদ সড়ক, রেলপথ ও নৌপথ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নীতি, গবেষণা, প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে নিসচা প্রণীত ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।দিনব্যাপী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়।ফিরে দেখা- ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয় সহধর্মিণী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় দায়িত্বে রূপ দেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর গত ৩৩ বছরে নিসচা শুধু একটি সংগঠন নয় বরং একটি জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এই পথচলায় সংগঠনটি জনসচেতনতা সৃষ্টি, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কার্যক্রম, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, নীতিগত সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন এবং দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়’নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চলচ্চিত্রের মহানায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ৩৩ বছরের এ আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীর আত্মত্যাগ আন্দোলনটিকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের জীবন রক্ষার এই আন্দোলনে আরও কিছুদিন কাজ করার তৌফিক দান করেন। আমিও দেশের প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করছি।’চিত্র নয়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো দাবি নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই; আমরা মানুষের জীবনের পক্ষে।’তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও দৃঢ় বাস্তবায়ন।’তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে না পারবে, ততদিন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য কোনো সমালোচনা নয় বরং সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে একটি দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’গবেষণা, প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা এখন আর শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নির্ভুল তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।’তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তারা দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তারা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।’মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে একটি কেন্দ্রীয় সড়ক দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার (National Road Crash Database) গড়ে তোলার, যেখানে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, রেলওয়ে এবং নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার তথ্য সমন্বিত হবে। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’তিনি বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগ, স্পিড ক্যামেরা, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল-টাইম দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ তথ্য ও জনসম্পৃক্ততা সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া ১২ দফা সুপারিশপত্র কোনো দাবিপত্র নয় বরং একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা।’নিসচার তথ্যভান্ডার কাজে লাগানোর আহ্বাননিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত দুর্ঘটনার তথ্য, জনমত, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা নিসচার অন্যতম বড় শক্তি।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করেন না; তারা দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, স্থানীয় সমস্যা এবং মানুষের প্রত্যাশা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত করেন। এই বিশাল তথ্যভান্ডার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার প্রায় ১২০টি শাখা এবং হাজারো সড়কযোদ্ধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। সরকার চাইলে এই স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।’সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগতনিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত 'Safe System Approach'-এর আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা, গতি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়ন, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালীকরণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জাতীয় অঙ্গীকারকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।নিসচার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ নিরাপদ, টেকসই ও মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।সংস্কৃতির মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানপ্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নয়; মানুষের মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমেও সম্ভব। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি বলেন, ‘নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি, পথনাটক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন হয়ে উঠবে।’মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরাপদ সড়ক বিষয়ক সচেতনতামূলক নাট্যোৎসব, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রচারণা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। নিরাপদ সড়ক একটি সামাজিক আন্দোলন আর সামাজিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সংস্কৃতির বিকল্প নেই।’আইন, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বউদ্বোধরী বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি বলেন, ‘সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’তিনি বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মতো সংগঠনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।’গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয়ের আহ্বানবিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদান অনন্য। ব্যক্তিগত বেদনাকে তিনি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন, যা আজ নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরঅনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর পক্ষ থেকে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ তুলে দেওয়া হবে।সুপারিশপত্রে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, চাঁদাবাজি ও পরিবহন সিন্ডিকেট নির্মূল, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ, সড়ক-রেল-নৌপথের সমন্বিত নিরাপত্তা, শিক্ষাক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপদ সড়ককে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) মনে করে, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। রাষ্ট্রের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, সুশাসন, গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নিসচা সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। সংগঠনটি আশা করে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মানবিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবহন খাতের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নিসচার প্রায় ১২০টি শাখার প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রতিনিধি ও সড়কযোদ্ধা এতে অংশ নেন। পরে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

০৮ আগস্ট ২০২৬

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

দৃষ্টি বিনোদন: ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও দক্ষিণী সিনেমার তারকা থালাপাতি বিজয় অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’। গত ৯ জানুয়ারি সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল। নানা জটিলতার কারণে থমকে যায় মুক্তি। দীর্ঘ ৭ মাস অপেক্ষার পর, গত ২৩ জুলাই বিশ্বের ৫ হাজার পর্দায় মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। ‘জন নায়াগান’ সিনেমা মুক্তির পর দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এনডিটিভির চলচ্চিত্র বিশ্লেষক লতা শ্রীনিবাস লিখেছেন, “থালাপাতি বিজয়ের জন্য ‘জন নায়াগান’ অবশ্যই দেখা উচিত। কারণ শেষবারের মতো তাকে পর্দায় দেখা যাবে। বিজয় কীভাবে একজন ‘জন নায়াগান’ (জনগণের নেতা) হয়ে উঠেছেন, তা টাইটেল কার্ড দেখিয়েছে। ত্রুটি থাকার পরও ‘জন নায়াগান’ দুর্দান্ত।” পাঁচে ৩ রেটিং দিয়েছেন লতা। ইন্ডিয়া টুডের জননী কে সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তবে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন ২। দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও বক্স অফিসে কতটা রাজত্ব করলেন বিজয়? যদিও বক্স অফিস বিশ্লেষক রমেশ বালা মুক্তির আগেই বলেছিলেন, মুক্তির প্রথম দিনে ৭৫-১০০ কোটি রুপি আয় করবে সিনেমাটি। তার এই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে ফলেছে। চলুন জেনে নিই, ৭ দিনে কত টাকা আয় করল সিনেমাটি- বলি মুভি রিভিউজের তথ্য মতে, মুক্তির প্রথম দিনে ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ভারতে আয় করেছে ৪৪ কোটি রুপি (নিট), দ্বিতীয় দিনে আয় করেছে ২১ কোটি রুপি (নিট), তৃতীয় দিনে আয় করেছে ৩০ কোটি রুপি (নিট), চতুর্থ দিনে আয় করেছে ৩২ কোটি রুপি (নিট), পঞ্চম দিনে আয় করেছে ১০ কোটি রুপি (নিট), ৬ষ্ঠ দিনে আয় করেছে ৮ কোটি রুপি (নিট), সপ্তম দিনে আয় করেছে ৬ কোটি রুপি (নিট)। যার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৫১ কোটি রুপি (নিট)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৬.২ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ৭ দিনে ভারতে আয় করেছে ১৪৯.৫০ কোটি রুপি (নিট)। বিদেশে আয় করেছে ৮১ কোটি রুপি (গ্রস)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৫.৬৩ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এইচ. বিনোথ। এতে থালাপাতি বিজয় অভিনয় করেছেন ভেত্রি কোন্ডান নামে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। দত্তক কন্যা ভিজিকে (মমিতা বাইজু) সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। কিন্তু মেয়েটির অতীতের মানসিক ট্রমা সেই পথকে কঠিন করে তোলে। বলিউড অভিনেতা ববি দেওল সিনেমাটিতে খলনায়ক জন হিমলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে আসেন। এরপরই শুরু হয় বিজয় ও ববি দেওলের মুখোমুখি লড়াই। তাদের লড়াইকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির মূল সংঘাত। ‘জন নায়াগান’ সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন বিজয়-পূজা। তাছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- প্রকাশ রাজ, প্রিয়ামণি, গৌতম বাসুদেব মেনন প্রমুখ। জানা যায়, সিনেমাটির বাজেট ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি রুপি। কোনো কোনো প্রতিবেদনে ৪০০ কোটি রুপিও পাওয়া গেছে। এটি প্রযোজনা করছে কেভিএন প্রোডাকশন্স।

৩০ জুলাই ২০২৬

২৮ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

২৮ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

দৃষ্টি নিউজ: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দিয়েছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) নামের একটি সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে এ অভিযোগ জমা দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস। অভিযোগকারী অন্যরা হলেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহ্যমান শাহ্ আলম বাদশা, কেন্দ্রীয় সংগঠক মহাসিন, জুলাই আহত আবু বকর ছিদ্দিক ওরকে তুহিন ফরাজী। অভিযুক্তরা হলেন- অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, আজিজুল হাকিম, ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ আহমেদ, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, অভিনেতা, সাজু খাদেম, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, আশনা হাবীব ভাবনা, হিরো আলম, সুজাতা আজিম, চন্দন রেজা, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, মোমিন মেহেদী ও সোমা ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা, উসকানি বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত রয়েছেন এসব তারকারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্তের স্বার্থে এ অভিযোগ দাখিল করেছি। এ বিষয়ে আল নূর মোহাম্মদ আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, বরাবরের মতোই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করছেন শান্তা ফারজানা, মোমিন মেহেদীসহ বেশ কিছু তারকা। অথচ ৫ আগস্টের দিনই শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের পতন হয়েছিল। আগামীতে আওয়ামী লীগ কোনোভাবে ফিরবে না। কিন্তু এই দোসররা মাঝে মাঝে আইনজীবী বা শিক্ষাবিদ হয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। আমরা সেটি হতে দেবো না।

২৬ জুলাই ২০২৬

জাহ্নবী কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁসের গুঞ্জন

জাহ্নবী কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁসের গুঞ্জন

দৃষ্টি বিনোদন: জাহ্নবী কাপুরকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সামাজিক মাধ্যমে ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস’ শিরোনামে যে দাবি ছড়িয়েছে, ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তার সমর্থনে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তার অভিনীত তেলেগু সিনেমা ‘পেড্ডি’তে ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন এবং তার নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘পাগলাইট’খ্যাত নির্মাতা উমেশ বিস্তের নতুন একটি সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন জাহ্নবী কাপুর। ছবিটির নাম এখনও চূড়ান্ত না হলেও এটি প্রযোজনা করবে একতা কাপুরের বালাজি মোশন পিকচার্স এবং অস্কারজয়ী প্রযোজক গুনীত মঙ্গার সিখ্যা এন্টারটেইনমেন্ট। চলতি বছরের অক্টোবর বা নভেম্বরে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গল্প, ঘরানা কিংবা সহ-অভিনয়শিল্পীদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উমেশ বিস্তের পরিচালনায় কাজ করবেন জাহ্নবী। একই সঙ্গে নির্মাতা উমেশ বিস্ত ‘পাগলাইট ২’-এর কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন। ২০২১ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রশংসিত সিনেমাটির সিক্যুয়েলে সানিয়া মালহোত্রার ফেরার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। ‘পেড্ডি’ সিনেমায় জাহ্নবীর ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক দর্শকের অভিযোগ, অতিরিক্ত ক্লোজআপ, নির্দিষ্ট ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল এবং কিছু রোমান্টিক দৃশ্যের মাধ্যমে চরিত্রটির গভীরতার চেয়ে তার শারীরিক উপস্থিতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে মতভেদও রয়েছে। একাংশের মতে, কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে নির্মাতার সৃজনশীল সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী করা উচিত নয়। জাহ্নবী কাপুর এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জয়া বচ্চন, কারিনা কাপুর খান, নিত্যা মেনন, জগপতি বাবু ও ডিম্পল হায়াথিসহ কয়েকজন তারকাও এ বিতর্ক নিয়ে মতামত দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে মূলধারার সিনেমায় নারীদের আরও শক্তিশালী, স্বতন্ত্র ও অর্থবহ চরিত্রে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে। সমালোচনার মুখে ‘পেড্ডি’র পরিচালক বুচি বাবু সানা সামাজিক মাধ্যমে ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিতর্কিত দৃশ্যগুলো সিনেমা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল বিভিন্ন ভিডিওকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের দাবি ছড়ালেও, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জাহ্নবী কাপুরের কোনো ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস’এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

২৬ জুলাই ২০২৬

পক্ষকাল ব্যাপী হুমায়ুন আহমেদ চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন

পক্ষকাল ব্যাপী হুমায়ুন আহমেদ চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাবে পক্ষকাল ব্যাপী অমর কথা শিল্পী হুমায়ুন আহমেদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্বোধন করা হয়েছে। ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে ওই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অত্যাধুনিক সিনে কমপ্লেক্স দ্যা নিউ রওশন টকিজ সিনেমা হলের আয়োজনে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। করোনেশন ড্রামাট্রিক ক্লাবের সভাপতি কাজী জাকেরুল মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাম্য রহমান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা এবং সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন দ্যা নিউ রওশন টকিজ সিনেমা হলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন প্রবাল। শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী দিনে অমর কথা শিল্পী হুমায়ুন আহমেদের চলচ্চিত্র ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ সিনেমাটি প্রদর্শন করা হয়। পক্ষকালব্যাপী ওই প্রদর্শনীতে হুমায়ুন আহমেদের শ্রাবন মেঘেরদিন, দারুচিনি স্বীপ, ঘেটুপুত্র কমলা, শ্যামল ছায়া সহ ১৫টি সিনেমা প্রদর্শন করা হবে।

২৫ জুলাই ২০২৬

কোয়েলের পর দেব-রচনা-সায়নীসহ ১৯ তারকা সাংসদের পদত্যাগ

কোয়েলের পর দেব-রচনা-সায়নীসহ ১৯ তারকা সাংসদের পদত্যাগ

দৃষ্টি বিনোদন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একসঙ্গে একাধিক তারকা সাংসদের পদত্যাগের খবর। টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব), অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষসহ মোট ১৯ জন সংসদ সদস্য রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। এমন একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, একটি চিঠিতে এই ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় শুধু টলিউড তারকারাই নন, সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই ‘গণপদত্যাগ’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক। চিঠির তারিখ ও জমা দেওয়ার সময় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। একটি পক্ষ দাবি করছে, চিঠিটি স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে আগেই। অন্যদিকে অন্য একটি পক্ষ এর আইনি বৈধতা ও তারিখ নিয়ে আপত্তি তুলেছে। সূত্র অনুযায়ী, চিঠির তারিখে অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি এখন আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া নথি ও স্বাক্ষর যাচাই নিয়েও চলছে আলোচনা। এদিকে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা গ্রহণযোগ্য পদত্যাগপত্রের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। সব মিলিয়ে দেব-রচনা-সায়নীসহ তারকা সাংসদদের ‘গণপদত্যাগ’ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

১২ জুন ২০২৬

সামান্থার সঙ্গে প্রতারণা ও পর্নোসাইটে বিকৃত ছবি প্রচারের অভিযোগ

সামান্থার সঙ্গে প্রতারণা ও পর্নোসাইটে বিকৃত ছবি প্রচারের অভিযোগ

দৃষ্টি বিনোদন ডেস্ক: ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নাগা চৈতন্য নিজের নাম, ছবি ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এই অভিনেতা। নাগা চৈতন্য ও অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর বিয়ে হয়েছিল ২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর। চার বছরের দাম্পত্যজীবনের পর ২০২১ সালের ২ অক্টোবর বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তারা। বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন নাগা। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এমন কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে, সামান্থার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন নাগা চৈতন্য। এমনকি তার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও তোলা হচ্ছে। তবে অভিনেতার দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে। নাগার পক্ষে আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবী বৈভব গগ্গর বলেন, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভিনেতার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও বিকৃত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং অভিনেতার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মামলাটির শুনানি করছেন বিচারপতি জ্যোতি সিং। আদালতে নাগার আইনজীবী দাবি করেন, কয়েকটি ওয়েবসাইট অভিনেতার নামকে অশালীন ও আপত্তিকর সার্চ টার্মের সঙ্গে যুক্ত করে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভুয়া ও মানহানিকর তথ্যও প্রচার করা হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত কনটেন্টে নাগা চৈতন্যের ছবি ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। আদালতে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তার আইনজীবী। সামান্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ প্রসঙ্গে বৈভব গগ্গর বলেন, এটা একটা ট্রলের অংশমাত্র, কোনো ন্যায্য সমালোচনা নয়। তিনি আরও দাবি করেন, ডিপফেক প্রযুক্তি, ভয়েস ক্লোনিং সফটওয়্যার এবং অন্যান্য ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন টুল ব্যবহার করে নাগা চৈতন্যকে ঘিরে ভুয়া অডিও-ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আদালতে নাগাকে নিয়ে তৈরি কয়েকটি মানহানিকর ইউটিউব ভিডিওর অংশও উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে অভিযোগ ওঠার পর ইতোমধ্যে কিছু লিংক সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নাগা চৈতন্য। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ডিপফেক কনটেন্টের বিরুদ্ধে তাঁর এই আইনি পদক্ষেপ নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

০১ জুন ২০২৬

পাত্র খুঁজছেন বাঁধন

পাত্র খুঁজছেন বাঁধন

দৃষ্টি বিনোদন: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি মাল্টিমিডিয়া অনুষ্ঠানে প্রেম, বিয়ে এবং জীবনের নানা সময় ও অভিজ্ঞতা নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, নতুন সম্পর্ক বা বিয়ে নিয়ে কোনো ভাবনা আছে কি না? উত্তরে বাঁধন বলেন, তিনি বিয়ের কথা চিন্তা করছিলেন। তার মনে হয়েছিল বিয়ে করার মতো একজন মানুষ তিনি খুঁজেও পেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কটি পরিণতি পায়নি। বাঁধনের উক্তি, ‘সত্যি বলছি, গত বছর বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। পরিকল্পনা থাকলেও আমার পছন্দমতো মানুষ পেতে হবে। বিয়ে করার মতো একজনকে পেয়েও ছিলাম। যার মা আমাকে খুব পছন্দ করেছিল। কিন্তু সে আসলে ভেগে গেছে !’ এখন বিয়ের জন্য উপযুক্ত কাউকে পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি। তবে প্রেম করার মত আছে সেটি অকপটে স্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রী। তার কথায়, ‘এখন বিয়ে করার মতো পাত্র আমার আশপাশে পাই নাই। প্রেম করার জন্য দুই একজনকে পেয়েছিলাম। তার মধ্যে একজনের সঙ্গে প্রেমও করেছি। কিন্তু বিয়ে করার জন্য পাত্র আসলেই গুরুত্বপূর্ণ।’ অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, ‘বিয়ে তো আমি দুইবার করে ফেলেছি। এখন আর নিশ্চয়ই সেই ভুলটা করা যাবে না।’ আলোচনায় তিনি বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ঈদকে ঘিরে শৈশবের স্মৃতিও তুলে ধরেন। বাঁধন বলেন, ছোটবেলায় কো রবানির ঈদ ছিল অনেক আনন্দের। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আনন্দমুখর সময় কাটানো। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বা ড়িতে কাটানো ঈ দের সময় তাঁর আজও মনে জ্বলজ্বল করে। তবে সময়ের সাথে মানুষের অনুভূতি বদলে যায়, দায়িত্ববোধের জায়গাটি বেশি অনুভূত হয়। তারও ঠিক একই রকম হয়েছে। অতীতের আনন্দ এখন বিশেষ স্মৃতি। তিনি বলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দের চেয়ে দায়িত্ববোধই বেশি অনুভূত হয়। আর রোজার ঈদের সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখা, যা এখনও আমার স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা করে আছে।’

৩১ মে ২০২৬

এফডিসিতে বহিরাগতদের দাপট

এফডিসিতে বহিরাগতদের দাপট

দৃষ্টি বিনোদন: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে প্রাণের টানে এফডিসিতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলেন ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এফডিসির পরিবেশ, বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য এবং সিনিয়র শিল্পীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওমর সানী জানান, দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে অংশ নিতে সকালে এফডিসিতে যান তিনি। সেখানে নিজের অভিনীত কালজয়ী সিনেমা ‘চাঁদের আলো’র ব্যানার দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তিনি জানান, এমডির কক্ষে আলাপকালে হঠাৎ প্রযোজক ও নায়ক হেলাল খান-এর নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জন লোক সেখানে প্রবেশ করেন। একটি কেপিআইভুক্ত স্থানে এমন গণজমায়েত ও শোডাউনকে ‘বিদঘুটে’ ও ‘বিব্রতকর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে অপমানিত বোধ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন সানী। বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তারেক রহমানের উদাহরণ দেন। সানী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব এখন কোনো শোডাউন ছাড়াই সাধারণ মানুষের মতো চলছেন, যা পুরো দেশকে চমকে দিচ্ছে। অথচ চলচ্চিত্রের জায়গায় এখনো কেন দলীয় আবহে শোডাউন দেখা যাবে? এটা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড় ও শিল্পীদের পেশাদার জীবনে দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্র দিবসে এমন বিশৃঙ্খলা দেখলে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ‘মাইন্ড’ করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এফডিসির সামনের সারিতে প্রকৃত শিল্পীদের বদলে বহিরাগতদের ভিড় নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে ওমর সানী বলেন, শিবা সানু বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বহিরাগতরা সামনের কাতার দখল করে রেখেছিল। প্রকৃত শিল্পীদের সম্মান দেওয়ার পরিবর্তে তারা ছবি তোলা ও নিজেদের জাহির করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। তিনি আরও জানান, চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি উজ্জ্বল-সহ অনেক সিনিয়র শিল্পীর উপস্থিতি আশা করেছিলেন। কিন্তু কাউকেই দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। ভিডিওর শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ওমর সানী অনুরোধ করেন, চলচ্চিত্রের মানুষকে যেন তাদের মতো করে থাকতে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বাইরে থেকে এসে আমাদের খাবলিয়ে বা চিমটি কাটা ঠিক না। আমরা চলচ্চিত্রের মানুষ, দিনশেষে আমরা চলচ্চিত্রকেই ভালোবাসি। দয়া করে এখানে আর শোডাউন করার চেষ্টা করবেন না। ওমর সানীর এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে এফডিসির সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে এফডিসিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাতেগোনা কিছু পরিচালক ও শিল্পী ছাড়া তেমন পরিচিত মুখ দেখা যায়নি। শিল্পীদের প্রতিনিধি হিসেবে রোজিনা, পলি, সনি ও জয় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সাদামাটা আয়োজনে অনেকটাই তারকাশূন্য ছিল চলচ্চিত্র দিবস।

০৪ এপ্রিল ২০২৬

কিংবদন্তি অভিনেতা সোহেল রানা চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন

কিংবদন্তি অভিনেতা সোহেল রানা চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন

দৃষ্টি বিনোদন: দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও প্রযোজক সোহেল রানা। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই জানিয়েছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ইনশাআল্লাহ পরশু অর্থাৎ আগামী ৫ তারিখ রাতে অসুস্থতা পরীক্ষা করানোর জন্য সিঙ্গাপুরের পথে রওনা হব। আমার জন্য আপনারা দোয়া করবেন। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। তার এই পোস্টের পর থেকেই চলচ্চিত্রাঙ্গন ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে শুভকামনা জানিয়েছেন। সোহেল রানার প্রকৃত নাম মাসুদ পারভেজ। তিনি সত্তর ও আশির দশকে অভিনয় ও প্রযোজনার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ প্রযোজনার মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন। সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন প্রয়াত খ্যাতনামা পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্র পরিচালনার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এই সিনেমায় ‘সোহেল রানা’ নাম ধারণ করে অভিনয় করেন, যা পরবর্তীতে তার স্থায়ী পরিচয়ে পরিণত হয়।

০৪ এপ্রিল ২০২৬

তেল সংগ্রহে ছুটির দিনেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন

তেল সংগ্রহে ছুটির দিনেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন

জ্বালানি তেল সংকটে দেশের বিভিন্ন স্থানে চরম ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারাদেশের মহাসড়ক ও জেলা শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে সবচেয়ে তীব্র চিত্র দেখা গেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ ও কাঁচপুর এলাকায় অধিকাংশ পাম্পে অকটেন বিক্রি বন্ধ রয়েছে। কোনো কোনো পাম্পে টানা দুই সপ্তাহ ধরেও অকটেন নেই। সীমিত পরিসরে শুধু ডিজেল বিক্রি চলছে। ফলে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রাজধানীতেও একই অবস্থা। বিজয় সরণি, আসাদগেট ও মিরপুর এলাকার বিভিন্ন পাম্পে সকাল থেকেই লম্বা সারি দেখা যায়। অনেক পাম্পে নির্দিষ্ট সময়ের আগে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়, আবার নির্ধারিত সময়েও সরবরাহ সীমিত থাকায় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককে ফিরতে হচ্ছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হুহু করে বাড়তে থাকে। বিশেষ করে, জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালির চলাচল নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম শত ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বেড়েছে তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম। ইরান আক্রমণের পর গত এক মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩১ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশে। কারণ, বাংলাদেশ জ্বালানি তেল এবং এলএনজি দুটোই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনে। খুলনা, দিনাজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পরিস্থিতি আরও নাজুক আকার ধারণ করেছে। কোথাও ‘তেল নেই’ লিখে পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও সীমিত সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেল না পেয়ে উত্তেজিত জনতার হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ভোগান্তির চিত্র সবচেয়ে করুণ হয়ে ওঠে দিনাজপুরে, যেখানে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। পাম্প মালিকরা বলছেন, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও চাহিদার তুলনায় কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ঘিরে আতঙ্কে অনেকেই প্রয়োজনের বেশি তেল কিনে মজুত করছেন, ফলে চাপ আরও বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই অরাজকতা আরও বাড়বে এবং জ

২৬ মার্চ ২০২৬

ব্যক্তিগত বার্তার নিরাপত্তায় পরিবর্তন আনছে ইনস্টাগ্রাম

ব্যক্তিগত বার্তার নিরাপত্তায় পরিবর্তন আনছে ইনস্টাগ্রাম

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বড় পরিবর্তন আসছে। আগামী মে মাস থেকে প্ল্যাটফর্মটি তাদের এনক্রিপ্টেড চ্যাট সুবিধা বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে অনেকের ব্যক্তিগত কথোপকথনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২৫ মার্চ ২০২৬

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেল বছরের সেরা থ্রিলার সিরিজ

এটি একটি ডেমো নিউজ। স্মার্ট নিউজ পোর্টালের লেআউট এবং ডিজাইন টেস্ট করার জন্য এই নিউজটি পাবলিশ করা হয়েছে। বিস্তারিত খবরের জন্য অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

২২ মার্চ ২০২৬

নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেন জনপ্রিয় এই নায়ক

এটি একটি ডেমো নিউজ। স্মার্ট নিউজ পোর্টালের লেআউট এবং ডিজাইন টেস্ট করার জন্য এই নিউজটি পাবলিশ করা হয়েছে। বিস্তারিত খবরের জন্য অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

২২ মার্চ ২০২৬